নারী দিবস উপলক্ষে এসিএইচএম এর প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

0
35

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এসিএইচএম এর দুইদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারীদের সাবলম্বী ও উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আনতে দি একাডেমী অফ কালিনারি এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট-(এসিএইচএম)

৩টি ভিন্ন ভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালা সমূহ ৮ই মার্চ ২টি, সকাল ১০টা থেকে দুপর ১টা, বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, এবং তৃতীয় টি ৯ মার্চ বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত চলে।

৮ই মার্চ সকালের কর্মশালায় সহযোগিতায় ছিলো “সহায়ক ফাউন্ডেশন” যেখানে “লায়ন ক্লাব প্রেসিডেন্সি” এর পরিচালক ও “সহায়ক ফাউন্ডেশন” এর সভাপতি লায়ন রীনা রহমান (রাণী মা) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বক্তৃতায়  দি একাডেমী অফ কালিনারি এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট- এসিএইচএম এর ভূয়সী প্রশংসা করেন এমন একটি উদ্যোগ নেয়ার জন্য। তিনি কর্মশালায় আগতাদের কর্মসন্থান এর জন্য তার সাধ্য মত সাহায্য করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সকালে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন দি গ্লোবাল নেট এর প্রকাশক ও সম্পাদক এবং  মাদার তেরেসা ফাউন্ডেশন (বাংলাদেশ চ্যাপ্টার) এর ভাইস চেয়ারম্যান লায়ন মিটু ধর চৌধুরী। তিনি বলেন একটি দেশের সামগ্রিক চিত্রটা যদি পজিটিভ অর্থে পরিবর্তন করতে হয় তাহলে নারী পুরুষ উভয়েরই সাবলীলভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আর নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির জন্য তিনি আয়োজকদের সাধুবাদ জানান।

৮ই মার্চ বিকেলের কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দেশের সুনামধন্য কলিনারি বিশেষজ্ঞ, মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব, এসেসর এবং লবি রহমান কুকিং ফাউনডেশন প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট লবি রহমান। তিনি বলেন আমাদের দেশে হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য ‘এসিএইচএম’ এর মতো প্রতিষ্ঠান আরো অনেক বেশি গড়ে ওঠা দরকার। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এ ধরনের আয়োজন নারীদের কর্মসংস্থান তৈরি ও তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আগামী দিনে “এসিএইচএম” এর পাশে থেকে সাধ্যমত আন্তরিক সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি আরো জানান, এ প্রতিষ্ঠানে প্রফেশনাল শেফ কোর্স এ প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় স্থান অধিকারী সকলের একটি করে রেসিপি অনন্যা ম্যাগাজিনে প্রকাশের ব্যবস্থা করবেন এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে তাদের একটি করে টিভি প্রোগ্রাম অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিবেন। উক্ত প্রোগ্রামে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশ পর্যটন শ্রমিক ফেডারেশনের কনভেনার লায়ন রাশেদুর রহমান তার বক্তৃতায় বলেন এ প্রতিষ্ঠানের সাথে যে সকল প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিবেন, পর্যটনের বিভিন্ন খাতে উপখাতে আমাদের হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মস্থান ও যথাযথ সম্মান প্রাপ্তিতে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রযোজক ও সঞ্চালক চন্দনা চৌধুরী তার বক্তৃতায় বলেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণার্থীর  ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে তিনি তার সাধ্যমত পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন এবং এসিএইচএম এর সর্বাত্তক মঙ্গল কামনা করেন। প্রোগ্রামের আয়োজনে সহযোগিতায় ছিলো ফুড হাব এবং শান্তা’স কুইজিন নামের (ফুড সাপ্লাই এন্ড ক্যাটারিং) দুটি প্রতিষ্ঠান।

৯ই মার্চ বিকেলের কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করেন এসিএইচএম এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার’স এসোসিয়েশন (বিটিইএ) কর্মশালায়  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া টুরিস্ট ক্লাবের প্রতিষ্ঠতা ও বিটিইএ এর চেয়ারম্যান জনাব শাহিদুল ইসলাম সাগর। তিনি তাঁর বক্তৃতায় বলেন সমাজের একটি বড় অংশকে বাদ দিয়ে কখনও একটি জাতি কিংবা রাষ্ট্র’ উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের ব্যক্তিগত স্বাবলম্বী হওয়া এবং পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের ও অন্যের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার। বিটিইএ প্রতিষ্ঠার পর থেকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে পর্যটনে বিভিন্ন খাতে উপখাত বিশেষ করে কালিনারি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছে। এসিএইচএম  হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরীর লক্ষ্যে নিজেদের যে অগ্রযাত্রা শুরু করেছেন তাতে বিটিইএ সর্ব প্রকার সহযোগিতা প্রদান করবেন এবং তিনি উদ্যোক্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ট্রেইনার এবং এসেসর জনাব জাহাঙ্গীর আলম বকুল বলেন ভালো কিছু সৃষ্টির জন্য প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নাই। রান্না শুধু আমাদের পেট ভর্তির জন্য নয়, এতে হাইজিন ও নিউট্রিশন বজায় রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রশিক্ষণ ছাড়া তা নিশ্চিত করা অনেকটাই অসম্ভব। এসিএইচএম এর সাথে এ কর্মশালায় যোগ দেওয়ার জন্য সকল প্রশিক্ষনার্থীদের তিনি ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের সর্বোত্তম সাফল্য কামনা করেন। বিটিইএ ন্যাশনাল ওমেনস স্টেন্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান স্বাম্মি শারমিন বলেন এ ধরনের আয়োজনে দেখে তিনি অভিভূত, ও ভবিষ্যতের সবরকম সহযোগিতা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পাশে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ প্রতিটি কর্মশালায় ঘুরে ঘুরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন। এসিএইচএম কর্মশালায় আগত সকল প্রশিক্ষণার্থী এবং অতিথিদেরকে ফুলের শুভেচ্ছা জানায় এবং উপহার সামগ্রী তুলে দেয়। প্রশিক্ষণ শেষে আয়োজক এবং অতিথিবৃন্দ প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন। পরে কেক কেটে কর্মশালা সমাপ্তি করেন। উল্লেখ্য যে বিটিইবি ও এনএসডিএ এর এসেসর নাজিয়া ফারহানা উক্ত কর্মশালার উপদেষ্টা ছিলেন।

প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন শেফ এরিনা শিরিন ও শেফ ফারহানা কাজল। ৮ই মার্চের কর্মশালা সমূহ কোর্ডিনেট করেন নামিরা খান ও সোনিয়া সিমরান। ৯ই মার্চের কর্মশালাটি কোর্ডিনেট করেন মারজানা ইসলাম মেধা। সবশেষে এসিএইচএম এর উদ্যোক্তাগণের পক্ষে পরিচালক শামসুন নাহার আহম্মেদ মিতা সকল অতিথি ও কর্মশালায় যোগদানকারী প্রশিক্ষণার্থীদের কে আন্তরিক কৃতজ্ঞ ও ধন্যবাদ ব্যাপন করেন।