সেন্টমার্টিন দ্বীপঃ বিপর্যস্ত পরিবেশ ও পর্যটন।

0
69

বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গার মাঝে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ অন্যতম।

কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে নাফ নদীর মোহনায় মাত্র ৮ বর্গকিলোমিটার এ দ্বীপটি অবস্থিত।
২৫০ বছর আগে আরব বণিকদের নজরে আসে এ দ্বীপটি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে বাণিজ্যের সময় আরব বণিকরা এ দ্বীপটিতে বিশ্রাম নিতো। তখন তারা এ দ্বীপের নামকরণ করেছিল ‘জাজিরা’। প্রচুর নারকেল পাওয়া যায় বলে পরবর্তীতে এটি নারিকেল জিঞ্জিরা নামে পরিচিত হয়।

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০০ সালে ভূমি জরিপের সময় এ দ্বীপটিকে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয়।
দ্বীপটিকে যখন ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তখন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মার্টিনের নাম অনুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয় বলে ধারণা করা হয়।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ওয়েব সাইট থেকে জানা যায়, ১৮৯০ সালে কিছু মৎস্যজীবী এ দ্বীপে বসতি স্থাপন করে।
এদের মধ্যে কিছু বাঙালি এবং কিছু রাখাইন সম্প্রদায়ের লোক ছিল। ধীরে-ধীরে এটি বাঙালী অধ্যুষিত এলাকা হয়ে উঠে। বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার লোকের বসতি এ দ্বীপটিতে।

কালক্রমে এ দ্বীপটি হয়ে উঠে বাংলাদেশের পর্যটনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি।
কিন্তু পর্যটকদের অবাধ যাতায়াত এবং অসাবধানতা ও অসচেতনতার ফলে হুমকির মুখে পরেছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ।
দ্বীপটিকে ‘প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন’ এলাকা ঘোষণা করে এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তিতে পরিবেশ অধিদফতর বলেছে, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন এবং পর্যটকদের অসচেতনতা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, পরিবেশ এবং প্রতিবেশবিরোধী আচরণের কারণে সেন্টমার্টিনের বিরল প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রীদের আনা-নেয়ার বিষয়ে নৌ মন্ত্রণালয় ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হলেও এসব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় করা যাচ্ছে না। অথচ জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীপকে সরকার পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা-ইসিএ ঘোষণা করেছিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দ্বীপটির পরিবেশ ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে পরিবেশ অধিদফতরে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

দ্বীপটির প্রবাল, শৈবাল, সামুদ্রিক কাছিম, লাল কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুকসহ নানা জলজ প্রাণী এবং জীব-বৈচিত্র্য এখন বিলুপ্ত হবার পথে। সেন্ট মার্টিনে যেকোনো ধরণের স্থাপনা গড়ে তোলার ব্যাপারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেগুলো উপেক্ষা করেই গড়ে উঠছে একের পর এক রিসোর্ট, হোটেল, মোটেল।

পর্যটকদের চাহিদা পূরণে দ্বীপের ভূগর্ভস্থ সুপেয় মিঠা পানির স্তরও নিচে নেমে গেছে। এ কারণে নলকূপ থেকে লবণাক্ত পানি আসছে।

এছাড়া পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যত্রতত্র প্লাস্টিকের বর্জ্য ফেলা, ভারী জেনারেটর, পাম্প পরিচালনা, পাথর তোলা, সৈকতের বালি অপসারণ- এক কথায় পরিবেশ বিধ্বংসী সব ধরণের কাজই হচ্ছে দ্বীপটিতে।

আর তাই দ্বীপ রক্ষার্থে ১৪টি বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পরিবেশ অধিদফতর

দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বিরল জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারসহ দ্বীপটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী দ্বীপে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেগুলো হল:

দ্বীপের সৈকত, সমুদ্র বা নাফ নদীতে সব ধরণের প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলা।

পশ্চিম পাশের সৈকতে কোনাপাড়ার পর দক্ষিণ দিকে এবং পূর্ব পাশের সৈকতে গলাচিপার পর দক্ষিণ দিকে পরিভ্রমণ না করা।

দ্বীপের সৈকতে মোটরসাইকেলের মতো যান্ত্রিক বাহন থেকে শুরু করে সাইকেল, ভ্যান, রিকশার মতো অযান্ত্রিক বাহনের চালানো বন্ধ করা।

দ্বীপের চারপাশে নৌ ভ্রমণ না করা।

জোয়ার ভাটা এলাকায় পাথরের ওপর হাঁটা চলা না করা।

সামুদ্রিক কাছিমের ডিম পাড়ার স্থানে চলাফেরা, সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো এবং ফ্ল্যাশ লাইট ব্যবহার করে ছবি না তোলা।

সৈকতে রাতের বেলা কোন প্রকাশ আলো বা আগুন জ্বালানো, আতশবাজি ও ফানুশ না ওড়ানো।

সৈকতে মাইক বাজানো, হৈ-চৈ বা উচ্চস্বরে গান বাজনা করা, বার-বি-কিউ পার্টি না করা।

ছেঁড়াদিয়া দ্বীপে স্পিডবোট, কান্ট্রি বোট, ট্রলার বা অন্যান্য জলযানে যাতায়াত এবং নোঙর না করা।

সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত ছেঁড়াদিয়া দ্বীপ ভ্রমণ হতে বিরত থাকা।

প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, তারা মাছ, রাজ কাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস, সামুদ্রিক শৈবাল এবং কেয়া ফল সংগ্রহ ও ক্রয় বিক্রয় না করা।

জাহাজ থেকে পাখিকে চিপস ও অন্য খাবার না খাওয়ানো।

দ্বীপে ভুগর্ভস্থ সুপেয় পানি সীমিত বিধায়, পানির অপচয় না করা।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রতিবেশের জন্য ক্ষতিকর যেকোন কার্যক্রম রহিত করা।


এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সুপারিশ করা বিশেষ কিছু নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে—

১/সেন্ট মার্টিনে সব ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ ও সম্প্রসারণ বন্ধ রাখা,

২/পরিষ্কার-পরিছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা,

৩/দোকান, হোটেল–মোটেল সব জায়গায় সুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা,

৪/দ্বীপের নিস্তব্ধতা ও শান্তি বজায় রাখতে শব্দ ও বায়ুদূষণ রোধ করা,

৫/কৃষিজমি ও স্থানীয় ব্যক্তিদের আবাসস্থলসহ দ্বীপের জোনিং ও সংরক্ষিত এলাকা নির্ধারণ করা,

৬/বিদ্যমান হোটেল-মোটেল ও রেস্ট হাউসের তালিকা করে ধারণক্ষমতা নির্ধারণ করা,

৭/দ্বীপের যানচলাচল ব্যবস্থাপনা ঠিক করা,

৮/দ্বীপকে ঝড় ও দুর্যোগ থেকে রক্ষায় ১০ হাজার ম্যানগ্রোভ ও কেয়াবেষ্টনী বৃক্ষরোপণ করা,

৯/দ্বীপের জমি ব্যবহার নীতিমালা প্রণয়ন করা,

১০/জেটি ব্যবস্থাপনা, পর্যটক জাহাজ পরিবহন,

১১/আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের জন্য ইকোলজিক্যাল বসতঘর নির্মাণ করা।

এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, মৎস অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, কোস্টগার্ড, জেলা-উপজেলা পরিষদসহ অধীন সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব দ্রুত পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সরকারের এমন পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার্স এসোসিয়েশন (বিটিইএ) শুরু থেকেই সকল পর্যটন স্থানগুলির কেরিং ক্যাপাসিটি নির্ণয় নিয়ে কথা বলে আসছে। আমাদের দেশের পর্যটন ব্যবসা নৈসর্গিক সৌন্দর্য নির্ভর। যদি পর্যটন স্থানগুলো সৌন্দর্য নষ্ট হয় তবে সেখানে ব্যবসাও থাকবে না। আর তাই আমাদের পরিবেশ বান্ধব পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে হবে।

তবে কিছু পরিবেশবাদী সংগঠন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই দ্বীপে পর্যটকদের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি তুলেছে। যা মোটেও উচিত হবে না।

সেন্টমার্টিন দ্বীপে ছোট বড় প্রায় ৮৮ টি রিসোর্ট রয়েছে এছাড়া পর্যটন মৌসুমে ৭ থেকে ৯ টা জাহাজ চলাচল করে পর্যটকদের দিয়ে। হঠাৎ করে পর্যটন বন্ধ করে দিলে একটা বড় জনগোষ্ঠী বেকার হয়ে পরবে। তাছাড়া যারা এই দ্বীপে বিনিয়োগ করেছে তাদের বিনিয়োগও হুমকির মুখে পরবে।

সরকারের উচিত হবে একটি মধ্য অবস্থা অবলম্বন করা যাতে পরিবেশও রক্ষা পায় আবার পর্যটন নির্ভর পেশাজীবিরাও বড় কোন ক্ষতির সম্মুখীন না হয়।

এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হচ্ছে

১/ পর্যটক নিয়ন্ত্রণঃ অতি পর্যটন যে কোন পর্যটন কেন্দ্রের জন্য ক্ষতিকর। বর্তমানে পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন ৮ থেকে দশ হাজার লোক এই দ্বীপে ভ্রমণ করতে আসে যা এ দ্বীপের ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি। এর পরিমান কমিয়ে ২০০০ (আলোচনা সাপেক্ষে) এ নির্দিষ্ট করা যেতে পারে।

২/ ডে ট্যুর বন্ধ করা হোকঃ অনেক পরিবেশবাদী সংগঠন মত দিয়েছে দ্বীপে রাতে থাকা নিষিদ্ধ করে শুধু দিনে ভ্রমণ চালু রাখতে। যেটা একটি ভুল সিদ্ধান্ত।
যারা একদিনের জন্য সেন্টমার্টিন আসেন তারা জাহাজ থেকে নেমে জেটি ঘাটের আশপাশ ঘুরে চলে যান। যে কারণে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সেন্টমার্টিনে কিছুই নেই। আসলে সেন্টমার্টিনের প্রকৃত সৌন্দর্য দেখতে হলে এখানে এসে থাকতে হবে এবং সময় ভাগ করে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে হবে। তাহলেই সেন্টমার্টিনের প্রকৃত সৌন্দর্য ধরা পড়বে।’ যেহেতু দ্বীপে আবাসন সংখ্যা সীমিত ডে ট্যুর বন্ধ করে দিলে চাইলেও বেশি পর্যটক আসতে পারবে না।

৩/ অনুমতি পত্রঃ সুন্দরবন যাওয়ার আগে যেমন কতৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয় সেন্টমার্টিন যাওয়ার ক্ষেত্রেও তেমন ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে কতৃপক্ষের কাছেও হিসাব থাকবে কি পরিমাণ পর্যটক যাচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।

৪/ প্লাস্টিকের পণ্য নিষিদ্ধঃ সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় যেকোনো ধরনের প্লাস্টিক মোড়কজাত খাবার, ক্যান এবং প্লাস্টিক বোতলসহ প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়া জরুরি। সে ক্ষেত্রে বিকল্প পণ্যের ব্যবস্থা করতে হবে এবং প্লাস্টিকজাত পণ্য কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৫/ মটর চালিত যান নিষিদ্ধঃ বিশ্বের অনেক দ্বীপে যা সংকটাপন্ন সেখানে চলাচলের জন্য আলাদা যানের ব্যবস্থা করা হয়। এ দ্বীপে চলাচলের জন্য মটর চালিত গাড়ির পরিবর্তে ঘোড়া বা গাধা ব্যবহার করা যেতে পারে।

৬/ বর্জ্য ব্যবস্থাপনাঃ এ দ্বীপের পরিবেশের জন্য সবচেয়ে হুমকি যা তা হলো প্লাস্টিক। প্লাস্টিকের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং এর বিকল্প পণ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। এব্যাপারে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। অন্যদিকে জৈব/পয়ঃবর্জ্য/মলকে ময়লা বা আবর্জনা হিসেবে না দেখে একে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সম্পদে রূপান্তরিত করা যায়। যেটা একদিকে দ্বীপের দুর্ভোগ হ্রাস করণের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে, আবার কৃষিক্ষেত্রেগুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। এ ধরণের জৈবসার একদিকে যেমন কৃষি জমির ক্ষয়রোধ ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, অন্যদিকে মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনে সহায়তা করে।

মোদ্দা কথা, দ্বীপে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে পারলে দ্বীপকে পরিবেশগত হুমকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

৭/ প্লাস্টিকের বর্জ্য অপসারণঃ দ্বীপের উপরে ও পানির নিচে প্রচুর প্লাস্টিকের বর্জ্য জমা হয়েছে। এগুলো পরিস্কার করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর একজোট হয়ে কাজ করতে হবে বর্জ্য অপসারণের জন্য। এবং তা নিয়মিতই করতে হবে।

৮/ জনসচেতনতা তৈরিঃ প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে এছাড়া স্কুল, কলেজের সিলেবাসে বাধ্যতামূলক থাকা চাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাঠ। তা করা গেলে শুধু সেন্টমার্টিন নয় ভ্রমণে গিয়ে কী আচরণ করতে হবে তরুণ প্রজন্ম তা জানবে। তখন প্যাকেট, পলিথিন, বোতল, পণ্য, ক্যানসহ বিভিন্ন বর্জ্যব্যবস্থাপনার কাজ নিজেরাই করতে শিখবে। বজায় থাকবে ইকোসিস্টেম।

সেন্টমার্টিন দ্বীপে মাত্র চার মাস চাপ থাকে বাকি আট মাস কিন্তু তেমন কোন চাপ থাকে না। আর প্রকৃতির নিজেস্ব নিরাময় ক্ষমতা আছে। যখন পর্যটকদের চাপ কমিয়ে আনা হবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু হবে তখন প্রকৃতি নিজেই নিজেকে পুনরুদ্ধার করবে।
পর্যটকদের আগমনকে নিরুৎসাহিত না করে বরং সুন্দর নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে হবে কর্তৃপক্ষকে।

লেখক: মাসুদুল হাসান জায়েদী,

ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিটিইএ