পর্যটনে নারী উদ্যোক্তা সিমরান

0
168

দি ট্যুরিজম ভয়েস’ পত্রিকা সব সময় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে এবং শিল্পের সাথে যুক্ত কিছু ব্যতিক্রমী মানুষকে তুলে ধরার প্রাণান্তর চেষ্টা করে এবং সেই মানুষগুলোর পর্যটন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার স্বপ্ন ও লড়াই কে সম্মান জানিয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে। আজ তুলে ধরবো তেমনি একজন রন্ধন শিল্পী, ফুড ক্যাটারিং ব্যবসায়ী এবং পর্যটন উদ্যোক্তা সোনিয়া আক্তার সিমরান- এর পথচলার গল্প।

সোনিয়া আক্তার সিমরান ১৯৮৬ সালে ১৮ই জুলাই পঞ্চগড়ের প্রাণ কেন্দ্র ইসলামবাগে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০১ সালে ব্যারিষ্টার জমিরউদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এস.এস.সি পাস করেন এবং ২০০৩ সালে আদর্শ কলেজ, দিনাজপুর থেকে এইচ.এস.সি পাস করেন। অতঃপর ২০০৭ সালে বি এ অনার্স (সমাজকল্যাণ) নিয়ে কারামাইকেল কলেজ, রংপুর থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং একই কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ছোট বেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নানা রকম সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি উদিচি ও মনিমেলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন। ছাত্র জীবনের বিভিন্ন কাজের জন্য তিনি পেয়েছেন অনেক সম্মাননা ও পুরস্কার। সমাজসেবা মূলক কাজেও তিনি পিছিয়ে নেই, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০০ পর্যন্ত তিনি দিনাজপুর গার্লস গাইড নেতৃত্ব দান করেছেন, পেয়েছেন সম্মাননা।

বাবা ব্যবসায়ী নাজমুল হক এর আদরে এবং গৃহিণী মা তহমিনা হক এর সোহাগে, আহ্লাদে শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন সোনিয়া আক্তার সিমরান।
ছোট বেলা থেকে একটু স্বাধীনচেতা সিমরান। উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। চার দেয়ালের ভিতর কখনোই তিনি থাকতে চান নি। বড় হওয়ার সাথে সাথে এবং আতিথিয়তা প্রিয় সিমরান রান্না করতে করতে কখন যে রান্না কে ভালোবেসে ফেলেছে তা আর কখনো

ভেবে দেখেননি তিনি। সময়ের সাথে সাথে আত্মীয়র কাছ থেকে তার খাবারের প্রশংসা শুনতে শুনতে তিনি ভাবতে শুরু করলেন তিনি কেন এই রান্না নিয়ে কাজ শুরু করছেন না। অনলাইনে প্রচার-প্রচারণা দিন দিনে বাড়তে থাকে তার, সোনিয়া সিমরানের “ভোজনবিলাস” এর রান্নার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে।

২০১৩ সালে “ভোজনবিলাস” নামে অনলাইনে হোমমেড ফুডের বিজনেস। ইচ্ছে শক্তি কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্যমে পথচলা শুরু হলো সোনিয়া সিমরানের।

সোনিয়া সিমরানের প্রিয় পরিবার তাকে সব সময়ই মানসিকভাবে সহযোগিতা করে। সোনিয়া সিমরানের বলেন, রান্না আমার ভালো লাগে আর সেই ভালো লাগাকে কাজে লাগিয়ে ভালোবাসায় রূপান্তর করে বাঙালি খাবার কে বিশ্বের দরবারে পরিচয় করিয়ে দিতে চান তিনি। আজ উদ্যোক্তা সোনিয়া সিমরান হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে তার পরিবার সহ কিছু মানুষের অবদান অনেক। তার জন্য তিনি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।
সোনিয়া সিমরান বর্তমানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার্স এসোসিয়েশন বিটিইএ এর উইমেন্স স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োজিত আছেন। বিটিইএ আয়োজিত “সেরা রন্ধন শিল্পী ২০২১” এ সেরা রন্ধন শিল্পী পুরস্কার গ্রহণ করেন।

দি ট্যুরিজম ভয়েস’ সোনিয়া আক্তার সিমরান- এর উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করে এবং ভবিষ্যতে যে কোন কাজের পাশে থাকার প্রাণান্তর চেষ্টা করে তার সোনালী স্বপ্নকে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে সর্বদা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছে। সোনিয়া সিমরানের এই এগিয়ে চলার ও সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে পুষ্পিত পল্লবের মত ছড়িয়ে পড়ুক সহস্র নারীর মাঝে।