পর্যটনে নারী উদ্যোক্তা অপি

0
97

দি ট্যুরিজম ভয়েস’ পত্রিকা সব সময় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে এবং শিল্পের সাথে যুক্ত কিছু ব্যতিক্রমী মানুষকে তুলে ধরার প্রাণান্তর চেষ্টা করে এবং সেই মানুষগুলোর পর্যটন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার স্বপ্ন ও লড়াই কে সম্মান জানিয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে। আজ তুলে ধরবো তেমনি একজন রন্ধন শিল্পী, ফুড ক্যাটারিং ব্যবসায়ী এবং পর্যটন উদ্যোক্তা নিশাত সুলতানা অপি পথচলার গল্প।

নিশাত সুলতানা অপি-
১৯৮৯ সালে ২৬ই এপ্রিল টাঙ্গাইল জেলায় তার নানু বাড়িতে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
জন্ম সূএরে টাংগাইলে নানাবাড়ি নানি ভালোবেসে তার নিজের কাছেই রেখে দেয়। শৈশব এবং কৈশোর কেটেছে টাংগাইলে ।

ছোট বেলা থেকেই প্রকৃতির সাথে খুব ভাব ছিলো নিশাত এর পাখির মতো ফুলে ফলে ঘুরে ঘুরে ফ্রেস খাবার টা খেতো নিশাত।

প্রাইমারি স্কুল টা কাছে হলেও, হাই স্কুলে যেতো মাইল দুই হেঁটেই। এস এস সির পর ঢাকা মোহাম্মদ পুর কেন্দ্রীয় কলেজ ভর্তি করে দেয় বাবা। বাবার সপ্ন ছিলো নিশাত সুলতানা অপি যেনো অনেক দূর পড়াশোনা করে।

সন্তোষ ইসলামি বিশ্ব বিদ্যালয় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৬ এ এস এস সি পাশ করেন নিশাত সুলতানা অপি। মানবিক বিভাগ থেকে ঢাকা মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ থেকে এইচ এস সি ২০০৮,পরবর্তীতে মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ থেকে বি এ পাশ করেন ২০১১, মনোবিজ্ঞান মাস্টার্স করেছেন ২০১৩ তে মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ থেকে।

নিশাত সুলতানা অপি রা দুই বোন কোন ভাই নাই নিশাত বড়ো, তাই নিজে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়, নিজের পায়ে দাড়াতে চায়, কারো বোঝা হয়ে বাঁচতে চাই না বরং অন্যোর বোঝা টা কমিয়ে দিতে চাই।

এইচ এস থেকেই মনোবিজ্ঞান সাবজেক্ট টা ভালো লাগতো। তাই মনোবিজ্ঞানে মাস্টার্স করে।ইচ্ছে ছিলো কাউন্সিল হবে তবে সেকেন্ড ডিভিশন রেজাল্ট আসাতে কাউন্সিল হবার সপ্নটা আর পূরন হলো না। পড়াশোনার পাশাপাশি জব করেছি আট বছর। তবে ইচ্ছে ছিলো এমন কিছু করবো যাতে অন্যের অধিনে কাজ করবে না নিজেই কিছু করবে এবং নিজের পরিবার এবং সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে।

২০১৮ তে Mohammadia Food’s নামে একটি খাবারের পেইজ খুলি তার পর এক ভাতিজার মুখে ভাতের অনুষ্ঠান ২৫ জনের রান্না অর্ডার পায়। রোস্ট পোলাও ডিম। সবই ছিলো শ্বশুর বাড়ির আদি পুরান ঢাকার মানুষ,, এরা আবার অনেকেই নবাব পরিবারের মানুষ। রান্না খেয়ে সবাই ১০০ তে ১০০ নাম্বার দিতে বাদ্য হয়েছিলো।সেখান থেকেই আরো অনুপ্রেরণা পেলো তবে জব করতো বলে নিজের পেইজ টা নিয়ে বেশিদূর এগোতে পারি নি নিশাত।

২০১৯ থেকে বিভিন্ন গুরুপে যুক্ত হতে থাকেন। ছোট বোন এবং ননদ এবং পরিচিত দের ইনভাইটেশনে।
কিছু ভালো সুন্দর মনের মানুষ কে পাশে পেয়েছেন পথ চলতে।

এ জগতে একে বারেই অচেনা নিশাত সুলতানা অপি। বিভিন্ন পোস্ট পরের জানার চেষ্টা করছেন আস্তে আস্তে কিছু মানুষের সাথে পরিচিত হন তার টুকটাক অর্ডার আসতে শুরু করে তার।

২০১৭ সালে ৪মে বিয়ের পিরিতে বসেন নিশাত সুলতানা অপি, পরিবারের পছন্দেই, বিবাহ সূত্রে পুরান ঢাকার বাসিন্দা,

২০১৯ আগষ্টের ১ তারিখে কোল জুড়ে এলো এক ফুট ফুটে রাজকন্যা। মেয়ে কে সময় দেওয়ার জন্যই একদিনের নোটিশে জব টা ছেড়ে দেন নিশাত।

পুরান ঢাকার বউ হওয়ার সুবাদে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য বাহী খাবার গুলো নিয়ে কাজ করছে নিশাত যেমন দইবড়া, কাচ্চি, মোরগ পোলাও, বোরহানি, মাঠা, লাবাং,দুধের শরবত।

পাশাপাশি ক্যাটারিং সার্ভিস, ঘরোয়া অনুষ্ঠানে রান্নার অর্ডার নিয়ে থাকে নিশাত।

নিশাতের হাতে ভাজা হোমমেইড চানাচুর, খেজুর বাদামের চকলেট বেশ নাম করেছে।

নিশাতের সিগনেচার আইটেম দইবড়া যারা খেয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ তারা রিপিট কাস্টমার।

এরি মাঝে ১০০ জন রন্ধন শিল্পী দের নিয়ে দুটি রেসিপি বইতে নিশাত এর দুই টি রেসিপি স্থান পেয়েছে আলহামদুলিল্লাহ, ১ / মাংস পুলি পিঠা ২/ আনারসি ইলিশ। এছাড়াও বিভিন্ন পএ পএিকায় রেসিপি বের হয়েছে।

নিশাত সুলতানা অপি বর্তমানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার্স এসোসিয়েশন বিটিইএ এর উইমেন্স স্ট্যান্ডিং কমিটির এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসাবে নিয়োজিত আছেন।

একদিন YEESBD নাম গুরুপ থেকে নক দেন মেসেনজারে এই গুরুপ এ যুক্ত হওয়ার পরে থেকেই নিশাত তার কাজ দিয়ে মন জয় করে নেয় আস্তে আস্তে।

YEESBD ডাইনামিক টিম এর মিটআপে স্পনসর হয়ে গুরুপের মধ্যে দারুণ সারা ফেলে দেয় নিশাত এক জন মেয়ে হয়ে আরেক জন মেয়ের জন্য আস্ত মুরগির রোস্ট, ডিম, কাবাব দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশ করেন।

প্রতিটি মেয়ে জাতির প্রতি সন্মান রেখে উপহার টা তুলে দেয় নিশাত।

নিশাত শুধু খাবার বেঁচে টাকা রোজগার করতে চায় না, মানুষের ভালোবাসা কুরাতে চাই, চাই অন্তত থেকে দোয়া।

নিশাত এর ইচ্ছে শক্তি দেখে YEESBD গুরুপ থেকে মডারেটর হিসেবে নিযুক্ত করেন।

নিশাত সপ্ন দেখে একজন ভালো মানুষ হয়ে একজন সফল উদ্যেক্তা হবার। পেইজ টাকে আরো বড়ো আকারে রেস্টুরেন্টে এ পরিনত করতে চায়, সমাজের কিছু অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে চায়। নিশাত একা নয় সবাই কে নিয়ে ভালো থাকতে চায় মানুষের কাছে ভেজাল মুক্ত হোমমেইড সুষম খাবার পৌঁছে দিতে চাই কেননা স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল।

মানুষ মরে গেল পঁচে যায় কিন্তু বেঁচে থাকেন তার কর্মের মাঝে নিশাত মরে গেলেও তার কর্মের মাঝেই বেঁচে থাকতে চায়।

ছোট্ট রাজকন্যা কে নিয়ে নিশাত বিশাল লড়াই জীবনে,তবে নিশাত থেমে যাওয়া বা হাল ছেড়ে দেওয়ার পাএী না, নিশাত এর ইচ্ছে শক্তি এবং ধৈর্যের দেখে বিভিন্ন গুরুপের অনেকেই নিশাত কে সাহসী সংগ্রামী নারী বলে।

ছোট বেলা থেকে একটু স্বাধীনচেতা নিশাত। উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলো তিনি। তার এই উদ্যোক্তা হওয়ার পিছনে নিশাত সুলতানা অপি তার মা ও শাশুড়ী মা ও শশুর আব্বা তার স্বামী পাশে ছিলেন সব সময়। https://fb.me/e/3BapXM8Ic

দি ট্যুরিজম ভয়েস নিশাত সুলতানা অপি উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করে এবং ভবিষ্যতে যে কোন কাজের পাশে থাকার প্রাণান্তর চেষ্টা করে তার সোনালী স্বপ্নকে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে সর্বদা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছে। নিশাত এর এই এগিয়ে চলার ও সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে পুষ্পিত পল্লবের মত ছড়িয়ে পড়ুক সহস্র নারীর মাঝে।