পর্যটন কর্মী ও শিল্প রক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন কেন্দ্র সমূহ খুলে দেয়ার আহ্বান।

0
171

বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কার্স-এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের আয়োজনে গতকাল ১০ আগষ্ট ২০২১, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত “ পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রেক্ষিত করোনায় বিপর্যস্ত পর্যটন শিল্প”-শীর্ষক অনলাইন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কার্স-এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের আহবায়ক রাশেদুর রহমান রাশেদ এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আহসান হাবিব বুলবুল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ, বিশিষ্ট পর্যটন ব্যাক্তিত্ব-গবেষক-লেখক জামিউল আহমেদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, ট্যুরিজম রিসোর্ট ইন্ডাষ্ট্রিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট খবির উদ্দিন আহমেদ, ট্যুরিজম ডেভলপারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ হাবিব আলী, বাংলাদেশ ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রেজাউল একরাম, ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদকআসাফ উদ্ দৌলা (আশেক) প্রমুখ। বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কার্স-এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের যুগ্ম আহবায়ক সাহিদুল ইসলাম, খালেকুজ্জামান লিপন, ফারহানা ইয়াসমিন, মহিউদ্দিন রিমেল, শরিফ আহমেদ, নির্বাহী সদস্য জনার্দন দত্ত নান্টু, আনোয়ার হোসেন, রোকন আহমেদ রাকিব, ইমরান হোসেন রিয়েল প্রমুখ।


নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে পর্যটন শিল্পের সর্বোচ্চ বিকাশে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে এবং এর অংশ হিসাবে পুরো দেশকে ৮টি পর্যটন জোনে ভাগ করে কয়েকটি স্তরে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। কক্সবাজারে প্রতক্ষ্যভাবে ৩৭ হাজার কোটি এবং পরোক্ষভাবে ১ লক্ষ ৯৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় পর্যটন অবকাটামো নির্মাণে ২৫টি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। রামুর ঐতিহাসিক নিদর্শনসমুহ সংস্কার এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে ৩৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। কক্সবাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পি.পি.পি এর মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য খান জাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণ, মংলায় থ্রী স্টার হোটেল নির্মান, সিরেটে ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণ, টাঙ্গুয়ার হাওর দর্শনের পর্যটকদের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ, খুলনায় আন্তর্জাতীক মানের হোটেল কাম ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিকাশ, কক্সবাজারে এন্টারটেইনমেন্ট ভিলেজ এবং পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স তৈরী ছাড়াও টেকনাফের সাবরাং সমুদ্র তীরে ২০৭৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় “সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক” এবং নাফ নদীর তীরে ৪২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় “নাফ ট্যুরিজম পার্ক’ নির্মানের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পর্যটনের এই অবকাটামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটকদের সেবা দিতে যারা দেশের এম্বাসিডর হিসাবে ভুমিকা পালন করে সেই দক্ষ পর্যটন কর্মী তৈরী এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ছাড়া পর্যটন শিল্পের বিকাশে গৃহিত মহাপরিকল্পনা কার্যত সফল হবেনা। কিন্তু করোনাকালের এই দেড় বছর পর্যটন পেশা পর্যটন কর্মীদের কাছে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। এই শিল্পে নিয়োজিত ৪০ লক্ষ শ্রমিক এবং তাদের উপর নির্ভরশীল মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি মানুষ অর্ধাহার-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। লক্ষ লক্ষ দক্ষ পর্যটন কর্মী পেশা পরিবর্তন করছে। এই দুঃসময়ে পর্যটন কর্মীদের সুরক্ষায় রাষ্ট্র বা বিনিয়োগকরীরা কোন ভুমিকা রাখেনি। পর্যটন মাহপরিকল্পনায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আইন প্রণয়নের কথা বলা হলেও পর্যটন কর্মীদের সুরক্ষায় বিদ্যমান শ্রম আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের কথা বলা হয়নি। ২০০৯ সালে গৃহীত পর্যটন নীতিমালা অনুযায়ী পর্যটন নীতিমালা বাস্তবায়নে ২৯ সদস্যের কমিটি রয়েছে। সেই কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের সচিবগণের সাথে এনজিও বুরে‌্যার মহাপরিচালক, এফবিসিসিআই এর সভাপতি কিংবা বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সদস্য হিসাবে থাকলেও পর্যটন আবাসন, পর্যটন পরিবহন, পর্যটন কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। যার ফলে করোনার এই দুঃসময়ে পর্যটন শিল্পকে রক্ষায় রাষ্ট্র সম্পূর্ণ দায়িত্বহীন আচরন করেছে। নেতৃবন্দ, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যটন কর্মীদের টিকা প্রদানের ব্যবস্থা, কর্মীদের চাকুরির নিশ্চিয়তা. একটি মান সম্পন্ন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ কবতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন এবং অবিলম্বে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল পর্যটন কেন্দ্র পরিচালনার অনুমতি প্রদানের আহবান জানান।
বার্তা প্রেরক
সাহিদুল ইসলাম শহিদ