ভ্রমনে নিরাপত্তা || সংকলন: খান মোহাম্মদ কাওসার আজিজ

0
232

আমরা কেন ভ্রমণ করি? ঘুরে বেড়াতে ইচ্ছা হয় বলেই। শরীর এবং মনের প্রফুল্লতা অর্জনের জন্যও। যেহেতু রোমাঞ্চকর স্থানে সময় কাটানো ভালোলাগার বিষয়। মনে স্বস্তিও আনে। কেননা ভ্রমণেরও আছে নানান রকমের উপকারিতা। সেটা স্বাস্থ্যের জন্য।ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সুফল হচ্ছে নতুন স্থান দেখা আর নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় তৈরি হওয়া। চলতি পথে নতুন মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি হবে। একাকী ভ্রমণের পথে অচেনা কোনো সঙ্গীর সঙ্গে কিঞ্চিত্ আলোচনাও সামাজিক দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। যদি কাজের চাপে বা কোনো পরিস্থিতিতে মন হাঁসফাঁস করতে থাকে তাহলে এই জমে থাকা চাপ আর উদ্বিগ্নতা কমাতে বেড়িয়ে আসুন কোথাও। বেড়িয়ে আসার পর নিজের মধ্যে নতুন করে উদ্যম খুঁজে পাবেন, মানসিক চাপ কমে যাবে। কাজ থেকে নিজেকে কিছুটা বিশ্রাম দিয়ে সেই সময়টুকু কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করতে পারেন।অনেকে হয়তো ভাবেন এসময়টা বাড়ির দৈনন্দিন কাজে লাগালে সময়ের সদ্ব্যবহার করা হয়। তবে প্রাত্যহিক জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে কিছুটা মুক্ত জীবনের স্বাদ নিতে ভ্রমণ খুবই জরুরি। নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে নিজের চিন্তাগুলোকে গুছিয়ে আনতে ভ্রমণ কাজে লাগতে পারে।

ভ্রমণের উপকারিতা আছে-

ভ্রমণের পরিকল্পনা করার পর থেকেই মনের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি হবে। ভ্রমণে কী কী সঙ্গে নেবেন তার তালিকা তৈরি কিংবা ভ্রমণে গিয়ে কীভাবে সময় কাটাবেন তা নিয়ে ভাবতে ভাবতে আপনার মনে এক নতুন উদ্দেশ্য তৈরি হবে। নিজের এই লক্ষ্য পূরণ করার সাফল্য আপনাকে যে আত্মবিশ্বাস এনে দেবে তা আপনার অন্যান্য কাজের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অনেক সময় দেখবেন ভ্রমণে একরকম পরিকল্পনা করে বের হয়েছেন কিন্তু শুরু থেকেই আপনার পরিকল্পনা মাফিক কিছুই হচ্ছে না। হয়তো দেখবেন আপনার গন্তব্যে উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর টিকিট ভুলে গেছেন, কিংবা খারাপ আবহাওয়ার কারণে বের হতে পারছেন না কিংবা যাত্রা বাতিল করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মোটেও হতাশ হবেন না। একটু চেষ্টা করলে বিকল্প ঠিকই খুঁজে নিতে পারবেন। আর যখন ভ্রমণে বেরিয়ে এরকম কাজের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন তখন আপনার মনটাও নমনীয় হয়ে উঠবে। ভ্রমণ শেষে দেখবেন বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়ে যাবে।

ভ্রমণে আপনি যে বিষয়টি শিখবেন তা হচ্ছে ধৈর্য। আপনি খেয়াল করবেন ভ্রমণে বের হওয়ার পর থেকে আপনাকে বিভিন্ন সময় প্রয়োজন অনুযায়ী অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। কখনও লাইনে দাঁড়িয়ে, কখনও বা প্লেনের জন্য আবার কখনও রেস্তোরাঁয় খাবারের জন্য অপেক্ষা। এই অপেক্ষায় থাকার বিষয়টি আপনার ধৈর্য আরও বাড়িয়ে তুলবে। আপনি আপনার অপেক্ষার সময়টুকু নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। অনেক সময় চুপচাপ দাঁড়িয়ে আরও অনেকের সঙ্গে অপেক্ষা করবেন। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে জীবনকে উপভোগ করবেন ভ্রমণের মাধ্যমে শিখতে পারবেন আপনি।

মানসিক চাপ কমানোভ্রমণ মানসিক চাপ কমানো এবং নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ভালো উপায়। ছুটির সময়টা বাড়ির বাইরে গিয়ে কাটান। দেখবেন আপনি দৈনন্দিন ঝামেলা থেকে দূরে থাকবেন। ছুটি শেষে যখন ঘরে ফিরবেন; তখন একটা সতেজ বোধ এবং অনুপ্রেরণা কাজ করবে।

সামাজিক দক্ষতাভ্রমণে বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ হয়। আপনার পাশে বসা মানুষটির সঙ্গে আলাপ হতে পারে। এতে আপনার সামাজিক দক্ষতা বাড়বে। অনেকেই আবার নতুন পরিবেশে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। এমন সমস্যায় ভ্রমণ হতে পারে ভালো সমাধান।

ধৈর্যশীলতাঘোরাঘুরি করতে গেলে আপনাকে আরো বেশি ধৈর্যশীল হতে হবে। চাওয়ামাত্রই সব হয়তো হাতের কাছে চলে আসবে না। কেননা বের হলেই দেখবেন, কোনো কিছুর জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। খাবারের জন্য রেস্টুরেন্টে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি আপনাকে সামাল দিতে হবে।

ইতিবাচক চিন্তাভ্রমণ আপনাকে লক্ষ্য অর্জনেও সাহায্য করবে। ভ্রমণ করলে আপনি কিছুটা ইতিবাচক চিন্তার অধিকারী হবেন। মনে করুন, পাহাড়ে ওঠার লক্ষ্য অর্জন করলে আপনি হয়তো আবার একটি লক্ষ্য ঠিক করে নিবেন। এভাবে লক্ষ্য অর্জন আপনাকে দিতে পারে আত্মবিশ্বাস এবং সফলতা।

মানসিকতাবেড়াতে গেলে মানসিকতা বাড়ে। খারাপ আবহাওয়ায় তারিখ পরিবর্তন হতে পারে। তখন নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এসবই আপনাকে অনেক নমনীয় করে তুলবে। আরো বেশি মুক্তমন তৈরি করে দেবে। এসবই আপনার দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগবে।

ভ্রমণে নিরাপত্তা

ভ্রমণ আমাদের মনের পিপাসা যেমন মিটাই তেমনি আমাদের জ্ঞানের ভান্ডারও করে সমৃদ্ধশালী। পরিচয় হয় নতুন নতুন মানুষের সাথে। নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয় ভ্রমণকে করে স্মৃতিময়। ভ্রমণ যেমন আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করে তেমনি তিক্ত অভিজ্ঞতাও তৈরি করে সামান্য ভুলে। সামান্য ভুলের কারণে  পড়তে হয় নানা রকম বিড়ম্বনায়। এই বিড়ম্বনা এড়াতে আসুন জেনে নেওয়া যাক কিছু ভ্রমণ টিপস। যা আপনার ভ্রমণ কে করবে নিরাপদ এবং আরামদায়ক।

বিড়ম্বনা এড়াতে ভ্রমণ টিপস:

পরিকল্পনা –

ভ্রমণে বের হবার আগে সুন্দর একটি পরিকল্পনা দরকার।সঠিক পরিকল্পনা ব্যতীত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা হতে পারে তিক্ত।তাই শুরুতেই পরিকল্পনা করুন কখন, কোথায়,কিভাবে যাবেন ইত্যাদি।

প্রস্তুতি –

প্রয়োজনীয় সকল কাজ শেষ করে মানসিক ভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা উত্তম।কেননা কাজ বাকি রেখে গেলে আপনি ভ্রমণে গিয়েও ভ্রমণকে উপভোগ করতে পারবেন না।তাই ভ্রমণে বের হবার আগে অবশ্যই হাতের কাজ গুলো শেষ করে প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।

নিরাপত্তা –

ভ্রমণে বের হবার আগে অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করুন। আপনি যে স্থানে ভ্রমণে যাচ্ছেন বা যাদের সাথে ভ্রমণে বের হচ্ছেন তারা কতটা নিরাপদ সেটা অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নিবেন।বিশেষ করে মেয়েরা নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন বেশি।তাই এমন কোথাও ঘুরতে যাওয়া উচিৎ নয় যেখানে নিরাপত্তা সংকট আছে। পাশাপাশি সব সময় সকল অবস্থার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে না জানানোই উত্তম। অনেক সময় চেক-ইন এবং সামান্য সেল্ফিও আপনার নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করতে পারে।

খরচ –

ভ্রমণে বের হবার আগেই ঠিক করে নিন আপনি কত টাকা খরচ করবেন এবং চেষ্টা করুন অতিরিক্ত নগদ টাকা পয়সা না রাখতে। বুদ্ধিমানের কাজ হবে ডিজিটাল মানি ট্রান্সফারের ব্যবস্থা যা নগদ টাকার থেকে নিরাপদ। আর সব টাকা একসাথে বা এক স্থানে রাখবেন না। ভিন্ন ভিন্ন স্থানে রাখুন। স্বল্প খরচে ভ্রমণের জন্য বন্ধুদের সাথে বা বিভিন্ন ভ্রমণ গ্রুপের সাথে ভ্রমণ করুন।

ব্যাকপ্যাক –

ভ্রমণে বের হবার আগে প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো গুছিয়ে ফেলুন।খেয়াল রাখবেন ব্যাগটি যেন বেশি ভারী না হয়।এতে আপনার ভ্রমণ আনন্দ অনেকখানি মাটি হয়ে যেতে পারে।তাই চেষ্টা করুন শুধু মাত্র অতি প্রয়োজনীয় জিনিস গুলোই ব্যাগে নিতে।যেমন-জামাকাপড়, ঔষধপত্র,ক্যামেরা,চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক,পানির বোতল, ছাতা ইত্যাদি।বাসা থেকে বের হবার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নিবেন সব কিছু ঠিকমতো নিয়েছেন কিনা। নাহলে হয়ত আপনি অসুবিধায় পরতে পারেন।

পোশাক –

ছেলে মেয়ে উভয়ের জন্যই পোশাক নির্বাচন ভ্রমণ কে আরামদায়ক করে তুলতে পারে। পোশাক নির্বাচনের সময় একারণে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।এমন পোশাক নির্বাচন করতে হবে যে পোশাক আরাম দিবে ভ্রমণে। সমতলে যে পোশাক আরামদায়ক হবে সেটা পাহাড়ে উঠার জন্য আরামদায়ক নাও হতে পারে।

সতর্কতা –

ভ্রমণে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিস গুলোই সঙ্গে রাখুন।যেগুলো না হলেও আপনার চলবে সেই জিনিস গুলো পরিহার করুন। চেষ্টা করুন দামি ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং অলংকার ব্যবহার না করতে।চলাচলের ক্ষেতেও থাকুন সতর্ক যেন কেউ আপনার ক্ষতি করতে না পারে। গান শুনতে,বই পড়তে বা গোছল করতে গিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে গেলে চোরেরা এর সুযোগ নিতে পারে কথাটি মনে রাখুন। পাশাপাশি ফোন, ক্যামেরা ইত্যাদি সব সময় নিজের শরীরের সাথে এমনভাবে রাখুন যেন সামান্য টান পরলেও আপনি টের পান।

গাইড বুক –

আপনি যদি একা ভ্রমণে বের হতে চান তবে অবশ্যই সঙ্গে গাইড বুক রাখুন। কেননা যেখানে যাচ্ছেন সেখানে আপনার কোনো সঙ্গী নেই। কাজেই সবকিছু একাই করতে হবে। ওই স্থান সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য আগে থেকেই সংগ্রহ করুন।একটি মানচিত্র নিন। ইন্টারনেট থেকে ওই স্থান সম্পর্কে বিভিন্ন ব্লগ পড়ুন। পরিষ্কার ধারণা নিয়ে নিন। এতে আপনার ভ্রমণ হবে আরামদায়ক।

সংস্কৃতিকে জানা –

প্রতিটি দেশেরই রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি এবং বৈশিষ্ট্য।তাই আপনি যেখানেই ঘুরতে যান না কেন অবশ্যই সেই সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা করুন।এমন কিছু করবেন না যেন সেই সংস্কৃতিকে অসম্মান করা হয়। আপনি যে স্থানে ভ্রমণ যাচ্ছেন আগে থেকে জেনে নিন সেই স্থানের সংস্কৃতি।

যেমন- খাবার,পোশাক, আচার-আচরণ ইত্যাদি। এতে করে আপনি সেই সংস্কৃতিকে সহজেই শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। নয়ত আপনি অনেক সময় বিপদেও পড়তে পারেন।

বিনয়ী আচরণ –

ভ্রমণে বিনয়ী মনোভাব এবং ভালো ব্যবহার অত্যন্ত জরুরী। চেষ্টা করুন সকলের সাথে মিলেমিশে চলতে। ঝামেলায় যাতে না জড়িয়ে যান সেদিকে সজাগ থাকুন।শেয়ারিং এর মনোভাব নিয়ে ভ্রমণ করলে আপনার ভ্রমণ হবে আনন্দদায়ক।

অপরিচিতদের সাথে ব্যবহার –

অপরিচিতদের এবং স্থানীয়দের সাথে আন্তরিক ব্যবহার করুন। ভ্রমণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন।এতে আপনি অনেক কিছু জানতে পারবেন।তবে খাদ্যদ্রব্য বিনিময়ে সতর্কতা অবলম্বন করুন।

যোগাযোগ –

আপনি যেখানেই ঘুরতে যান না কেন যোগাযোগ রাখুন পরিবারের সাথে। সবসময় আপডেট রাখুন  পরিবারকে।এতে আপনার পরিবার দুশ্চিন্তায় থাকবে না।

যানবাহন ব্যবহারে সতর্কতা –

ভ্রমণে স্থানীয় গণপরিবহন ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।পাশাপাশি ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে চলাচল করুন অথবা আপনি অন্যদের সঙ্গে কোনো বাহন শেয়ার করুন। এতে যেমন নিরাপত্তা মিলবে, তেমনই কম খরচে ভ্রমণ করতে পারবেন।তবে শেয়ারিং এর আগে অবশ্যই বুঝেশুনে শেয়ার করবেন।যেন আপনার নিরাপত্তায় ব্যাঘাত না ঘটে।

আংটি পড়ুন এবং পিপার স্প্রে সাথে রাখুন –

মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য আংটির ব্যপারটা হাস্যকর শুনালেও এটি অনেক খানি সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং উটকো ঝামেলা থেকেও মুক্তি দিবে।বিভিন্ন দেশের মেয়ে ভ্রমণকারীরা নিজেদের ‘অবিবাহিত’ হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে চলার জন্য বাঁ হাতের অনামিকায় একটি আংটি সব সময় পরে থাকে। পাশাপাশি পিপার স্প্রে সাথে রাখুন।এটি আপনাকে দিবে বাড়তি নিরাপত্তা।

নেতিবাচক মন্তব্য –

ঘুরতে গিয়ে স্থানীয় কাউকে নেতিবাচক কিছু বলা থেকে বিরত থাকুন।পাশাপাশি স্থানীয় খাবারের বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করাটা বুদ্ধিমানের লক্ষণ নয়। নেতিবাচক মন্তব্য বা মনোভাব আপনার ভ্রমণের আনন্দকে মাটি করে দিতে পারে।

আরও কিছু টিপস:

১.জরুরি ফোন নাম্বার গুলো কাগজে লিখে রাখুন অথবা মুখস্থ রাখুন। বিপদে এটি বেশ উপকারে দিবে।

২.জাতীয় পরিচয় পত্র,ভিসা,পাসপোর্ট ইত্যাদি জরুরি কাগজ গুলো অন্তত দুই কপি রাখুন।একটা নিজের কাছে অন্যটা ব্যাগে।

৩.প্রয়োজন ছাড়া অপরিচিত কারও সাথে খুব বেশি কথা বলা থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকুন।

৪.যেখানে ঘুরতে যাবেন সেখানে থাকার ব্যবস্থা আগে থেকেই করুন। তাহলে আর কোনো ধরনের বিড়ম্বনায় পড়বেন না।

৫.সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না।স্থানীয় দের থেকে সাহায্য নিন।বেশ কাজে দিবে।

৬.কার্বোনেটেড পানীয় যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন কারণ এগুলো শরীরকে ভিতর থেকে শুষ্ক করে তোলে এবং যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান করতে ভুলবেন না।

৭.সব সময় খেয়াল রাখবেন যেন শরীরের ওপর অধিক চাপ না পরে।এতে আপনি অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন।

৮.ব্যাগে তালা ব্যবহার করুন। এতে অনেক নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করতে পারবেন।

৯.প্ল্যানের পাশাপাশি একটা ব্যাকআপ প্ল্যানও করে রাখুন।

১০.সাথে একটা ট্রাভেল জার্নাল রাখুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা লিখে রাখুন।পাশাপাশি বই বা ম্যাগাজিন  ও রাখতে পারেন।

১১. সম্ভব হলে ফার্স্ট এইড বক্স রাখুন।জামাকাপড়ের সঙ্গে একটি ছোটো পাউচে জ্বর, পেট খারাপ,অ্যাসিডিটি, বমি, মাথা ধরার ওষুধ নিয়ে নিন।

১২.স্থানীয় অধিবাসীদের বাড়িতেই প্রাকৃতিক কাজ সারার চেষ্টা করতে পারেন। সাধারণত তারা সহযোগিতায় করে।

১৩. টুরিস্ট রেস্টুরেন্টগুলো এড়িয়ে স্থানীয় বসবাসকারীরা যেখানে খায় সেখানে খাওয়া-দাওয়া করলে খরচ কমাতে পারবেন।

১৪.দুর্গম কোন স্থানে বেড়াতে যাওয়ার আগে অবশ্যই সাথে কিছু শুকনো খাবার যেমন মুড়ি, চিপ্স, পানীয় যেমন পানি, ফলের রস ইত্যাদি নিয়ে যাবেন।

লেনদেনের সাবধানতা, অনেক ভুঁইফোড় ট্রাভেল এজেন্সি ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে, এদের নেই কোন অফিস নেই অফিশিয়াল ব্যাংক একাউন্ট, এদের সাথে লেনদেনের সাবধান যেকোনো সময় ধোঁকা খাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যাদের অফিস আছে প্রয়োজনে অফিসে গিয়ে নিশ্চিতই টাকা জমা দিলেন অথবা অফিশিয়াল ব্যাংক একাউন্টে টাকা জমা দেন এতে আপনার কাছে প্রমাণ থাকবে।

আপনি নিরাপত্তার জন্য ভালো একটা ট্রাভেল এজেন্সির সাথে ট্যুর করতে পারেন। চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে কম টাকায় চলে গেলেন সেখানে গিয়ে আপনার পুরো টুর প্ল্যান টাই মাটি হয়ে গেল আপনি যেমন আশা করছিলেন সেই ধরণের সার্ভিস তারা দিতে পারবে না বিষাদময় লাগবে তখন। আপনি একটা স্ট্যান্ডার্ড একটা রুম, হাইজেনিক ফুড পাবেন না। ভালো মানের সার্ভিস পেতে অবশ্যই ভালো ট্রাভেল এজেন্সির সাথে আপনার যোগাযোগ করতে হবে। ভাল এজেন্সি চেনার উপায়, ফেসবুক পেইজ থাকবে, পেজে বেশ কিছু রিভিউ থাকবে, তাদের ওয়েবসাইট থাকবে অফিশিয়াল ব্যাংক একাউন্ট থাকবে অফিস থাকবে। ট্রাভেল এজেন্সি টি কোন ট্যুরিজম সংগঠনের সাথে জড়িত থাকলে সেটা আরো ভালো হয়।  এই সব বৈশিষ্ট্য থাকলে তাদের সাথে কথা বলে ভালো লাগলে তখন আপনি তাদের কাছ থেকে সার্ভিস নিলেন।

তথ্য সাহায্য:

-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস

-জাগো নিউজ, মঙ্গলবার, ০৪ এপ্রিল ২০১৭

-তানভীর হাসান, কারু কর্ম ব্লগ।