জনকল্যানমুখী করতে বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড আইনের সংশোধন জরুরী || মোখলেছুর রহমান ||

0
394

রাষ্ট্রের পক্ষে তার নাগরিকগণকে সীমাহীন স্বাধীনতা প্রদান করা সম্ভব নয়। তাই মানুষের শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল জীবন-যাপন নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের আইন প্রণয়ন করে। যার মধ্য দিয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য বিভিন্ন সুবিধাদির সৃষ্টি ও সমতার ভিত্তিতে বন্টন নিশ্চিত হয়। আইন প্রণয়নের এই সকল বিষয় মাথায় রেখে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য সরকারের উচিৎ প্রয়োজনীয় পর্যটন আইন তৈরি ও তার সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড এর কার্যক্রম পরিচালনা, পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং এতৎসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয় বলে ‘বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন, ২০২১’ শীর্ষক একটি আইন তৈরি করে বিল আকারে গত ০৩ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। এতে ১৮টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

আইনটি নিশ্চয়ই সংসদে উত্থাপনের পূর্বে প্রথাগতভাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের নানান টেবিল পার হয়ে কেবিনেটের অনুমোদন লাভ করে তারপর সংসদে গেছে। পর্যটনের একজন কর্মী ও দেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে বিল আকারে উত্থাপিত এই আইনটি পাঠ করে নিচের ২টি বিষয় তুলে উপস্থাপন করা হলো:

ক) এরিস্টটলের মতে, সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন। উল্লেখ্য, পর্যটনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ৪টি স্টেকহোল্ডার হচ্ছে পর্যটক, স্থানীয় স্বাগত জনগোষ্ঠী, ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড। এই আইনে এদের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তি ঘটে নাই। বরং আইনের গতি প্রকৃতি দেখে ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডদেরকে নজরদারিতে রেখে তাদের কাজের ব্যত্যয়কে ফৌজদারি অপরাধের দাঁড়ি পাল্লায় তুলে নিষ্পত্তির বিষয়টি সম্মানজনক বলে প্রতীয়মান হয় নাই। জাতির বৃহত্তর কল্যাণে পর্যটনকে আগামী দিনে রাষ্ট্রের একটি অন্যতম কর্মকাণ্ড হিসেবে গড়ে তোলার নিমিত্তে স্টেকহোল্ডারদের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল আইন ও বিধি নিষেধ প্রণয়ন করবে, সঙ্গত কারণেই সে সবের সাথে মর্যাদার বিষয়গুলি সম্পৃক্ত থাকতে হবে।

খ) এই আইনে বেশ কিছু মারাত্মক ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে, যা নিয়ে আইনটি পাশ হলে বাংলাদেশের পর্যটন ব্যবস্থা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। তাই প্রযোজ্য কর্তৃপক্ষের সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় সংশোধনীর জন্য আলোচ্য আইনের ৯টি অনুচ্ছেদের উপর পর্যবেক্ষণ ও মতামত উপস্থাপন করা হলো:

১. অনুচ্ছেদ ২(৩)-এ ট্যুর অপারেটর বলতে ‘প্রতিষ্ঠানকে’ বুঝানো হয়েছে।
পর্যবেক্ষণ: জাতিসঙ্ঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থাসহ পৃথিবীর সকল দেশেই ট্যুর অপারেটর বলতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বুঝানো হয়েছে। তাই আমাদের দেশের আইনেও তার ব্যত্যয় ঘটানো ঠিক হবে না। কেননা, সর্বত্রই ট্যুর অপারেশন ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে সংঘটিত হয়ে থাকে।
মতামত: এই আইনে ট্যুর অপারেটর বলতে ‘ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে’ বুঝানো উচিৎ।

২. অনুচ্ছেদ ২(৯)-এ বর্ণিত আছে যে, ‘পর্যটক’ অর্থ কোনো ব্যক্তি যিনি তাহার নিজের দেশ ব্যতীত, অন্য কোনো দেশে ২৪(চব্বিশ) ঘন্টার অধিক কিন্তু ১(এক) বৎসরের অনধিক সময়ের জন্য ভ্রমণ করিয়া থাকেন;
পর্যবেক্ষণ: এই সংজ্ঞায় বিপুল সংখ্যক দেশি পর্যটকদেরকে পর্যটকের বাইরে রাখা হয়েছে। অধিকন্তু, জাতিসঙ্ঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থা প্রদত্ত ভ্রমণের উদ্দেশ্য এই সংজ্ঞায় অনুপস্থিত। পর্যটকের ভুল সংজ্ঞাকে আইন সিদ্ধ করা হবে।
মতামত: এই আইনে জাতিসঙ্ঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত পর্যটকের সংজ্ঞা হুবহু গ্রহণ করা উচিৎ।

৩. অনুচ্ছেদ ২(১১)-এ বলা হয়েছে, ‘ব্যক্তি’ অর্থে যে কোনো ব্যক্তি এবং কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, অংশীদারি কারবার, ফার্ম বা অন্য কোন সংস্থাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
পর্যবেক্ষণ: ব্যক্তির সংজ্ঞায় যে কোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে উল্লেখ করে পর্যটন কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত নন, এম ব্যক্তিদেরকেও এই আইনে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এই আইন দ্বারা যে কোন ব্যক্তির সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হতে পারে।
মতামত: ট্যুর অপারেশন ও গাইডিংয়ের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই আইনের আওতায় রাখা যুক্তিযুক্ত। এর বাইওে যাওয়া মোটেও সমীচিন নয়, বরং সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

৪. অনুচ্ছেদ ৪(৩)-এ উল্লেখ আছে যে, বিদ্যমান অনিবন্ধিত ট্যুর অপারেটরগণকে এই আইন কার্যকর হইবার ৩(তিন) মাসের মধ্যে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নিকট ধারা ৫ এর বিধান অনুযায়ী আবেদনপূবর্ক ধারা ৭ এর বিধান অনুসারে নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করিতে হইবে।
পর্যবেক্ষণ: ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান হলে ট্যুর ‘অপারেটরগণকে’ বললে তা ব্যক্তিবাচক বলে মনে হয়। আবার বিধি প্রস্তুত ও অনুমোদনের পূর্বে ৩(তিন) মাসের মধ্যে নির্ধারিত ফরম, ফি ইত্যাদির মাধ্যমে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে নিবন্ধন পাওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। অন্যদিকে ট্যুর গাইডদেরকে একই সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের কোন কথা আইনে বলা নাই।
মতামত: ক) এই আইনে ট্যুর অপারেটরগণকে শব্দগুলির পরিবর্তে ‘ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানসমূহকে’ বলা যুক্তিযৌক্ত। খ) বিধি প্রস্তুত ও অনুমোদনের ৩(তিন) মাসের মধ্যে নির্ধারিত ফরম, ফি ইত্যাদির মাধ্যমে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে নিবন্ধন লাভ করার বাধ্যবাধকতা আইনে যুক্ত করা উচিৎ। গ) ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডদেরকে বিধান অনুসারে নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করার কথা বলা উচিৎ।

৫. অনুচ্ছেদ ৫(১)-এ বলা হয়েছে, নিবন্ধন সনদের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করতে চাইলে .. .. ট্রেড লাইসেন্সের সত্যায়িত অনুলিপি লাগবে।
পর্যবেক্ষণ: এটি সর্বজনস্বীকৃত যে, ট্যুর গাইড একজন ব্যক্তি। এমনকি ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব ট্যুরিস্ট গাইড এসোসিয়েশনও এদেরকে ব্যক্তি হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দিয়েছে, প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়। অন্যদিকে আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী কেবল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয়, কোন ব্যক্তির অনুকূলে নয়।
মতামত: এই অবস্থায় ট্যুর গাইডকে ট্রেড লাইসেন্স জমা দেওয়া থেকে অব্যাহতি দিয়ে বাস্তবসম্মত আইনি ভাষা যুক্ত করা উচিত। তবে আমার মত হলো, অবিলম্বে ট্যুর গাইডদের জন্য একটি আলাদা ইনস্টিটিউট স্থাপন করে সেখান থেকে মানসম্মত কারিক্যুলামের আওতায় পেশাগত প্রশিক্ষণ দিয়ে, সেই সনদের বিপরীতে নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রদান করা উচিত। তাতে ট্যুর গাইডদের একটি জাতীয় মান নির্ধারণ করাও সম্ভব হবে। এই সব ক্ষেত্রে কেবল আইনের কড়াকড়ির চেয়ে মানসম্মত গাইড তৈরি ও স্বীকৃতি অধিকতর জরুরি।

৬. অনুচ্ছেদ ৯(২)-এ বলা হয়েছে যে, ট্যুর গাইড এর আবাসন ঠিকানা পরিবর্তন হইলে, উহা নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিতে হইবে।
পর্যবেক্ষণ: প্রতীয়মান হয় যে, ট্যুর গাইডের নিবন্ধন ব্যক্তিগত আবাসনের ঠিকানায় প্রদান করা হবে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য আবাসিক ঠিকানায় ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয় না। ফলে বিষয়টি অপরিস্কার।
মতামত: এই আইনের অনুচ্ছেদ ৫(১) ও অনুচ্ছেদ ৯(২) সংশোধন ও সমন্বয় করা উচিৎ।

৭. অনুচ্ছেদ ১২-এ বর্ণিত আছে যে, কোনো ব্যক্তি এই আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে, উহা অপরাধ হইবে এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড এবং অনধিক ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
পর্যবেক্ষণ: ‘কোনো ব্যক্তি’ শব্দগুলি দ্বারা বাংলাদেশের যে কোন ব্যক্তিকে এই আইনে যুক্ত করা হয়েছে। কেবল ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডদের মধ্য থেকে আইনের বিধান লঙ্ঘনকারীর জন্য শাস্তি বা দণ্ড নির্ধারণ করাই সমীচিন।
মতামত: অনুচ্ছেদ ২(১১) ও অনুচ্ছেদ ১২ সংশোধন ও সমন্বয় করা উচিৎ।
৮. অনুচ্ছেদ ১৪(২)-এ বলা হয়েছে যে, এই আইনের অধীন অপরাধের বিচার ও কার্যধারা গ্রহণের ক্ষেত্রে, Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898)-এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
পর্যবেক্ষণ: ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডদের সকল অপরাধকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে প্রতীয়মান হয়। কিন্তু তাদের কাজের বা প্রতিশ্রুতির ব্যত্যয় হলে সবই কখনোই ফৌজদারি অপরাধ হবে, এমন ভাষা আইনে থাকা অনুচিত। শুধু তাই নয়, এরা সমাজে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, আয় বাড়ায় ও জিডিপিতে অবদান রাখে। তাই এদের সকল অপরাধকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে আইনে নির্ধারণ করে দিলে তা কেবল পর্যটনকে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে কেবল বাধার সৃষ্টি নয়, বরং রাষ্ট্রের সার্বিক আয় ও মর্যাদা হ্রাস করবে।
মতামত: ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডদের সকল অপরাধকে প্রথমে সালিশের মাধ্যমে ও পরে প্রচলিত আইনে বিচারের আওতায় আনা হবে বললে তা অধিক সময়নিষ্ঠ ও যুক্তিনিষ্ঠ হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে আলাদাভাবে ‘পর্যটন সালিশ বোর্ড’ গঠন করা যেতে পারে।

৯. অনুচ্ছেদ ১৫-এ বর্ণিত মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার।
পর্যবেক্ষণ: এইরূপ অনুচ্ছেদ যোগ করার অর্থ হলো Force of law এই মত প্রকাশ করে যে, ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডরা স্বভাবজাতভাবে অপরাধ প্রবণতার সাথে সম্পৃক্ত। তাই তাদেরকে ব্যাপক নজরদারিতে রাখা উচিৎ। আইনে এইজাতীয় অনুচ্ছেদ পর্যটনের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ শিল্পকে শুরু থেকেই অমর্যাদার দিকে ঠেলে দিবে। ভবিষ্যতে এই সকল পেশায় শিক্ষিত, পেশাদারী ও মর্যাদাপূর্ণ তরুণদের সম্পৃক্ততা হ্রাস পাবে। সর্বোপরি, আইনের ব্যাপক অপব্যবহার ঘটবে।
মতামত: এই আইন থেকে অনুচ্ছেদ ১৫ কেটে বাদ দেওয়া উচিত।

প্রাচীনকাল থেকে যে সকল আচার ব্যবহার, রীতি-নীতি ও অভ্যাস সমাজে স্বীকৃতি পেয়েছে তা-ই প্রথা। আর এই প্রথাগুলির মধ্যে যেগুলি যুক্তিসিদ্ধ ও জনহিতকর তা পরে আইন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্র ও জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ করা হয় বলে আইন তৈরির উৎস ও উপাদান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

সংসদের কাজ হলো জনকল্যাণমূলক প্রথা অনুসন্ধান করে চাহিদার ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করা। এভাবে সময়ের প্রেক্ষিতে মানুষের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই আইন সভার সদস্যগণ জনকল্যাণে ও নাগরিক অধিকার রক্ষার্থে নতুন নতুন বিষয়কে আইনে রূপান্তর করেন। তবে উপনিবেশিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে নিয়ন্ত্রণের চেয়ে কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা অতীব জরুরি। অন্তত পর্যটন বিষয়ক আইন প্রণয়নে এই ধরণের প্রগতিশীলতা প্রদর্শনের কোন বিকল্প নাই। কারণ, পর্যটন আইনের স্বীকৃতি লাভের পর তা প্রয়োগের উপর নির্ভর করবে দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, আয় ও রাষ্ট্রীয় রাজস্ব উপার্জন।