ঘোষিত প্রণোদনায় পর্যটন খাতের ৩৫ লক্ষ শ্রমিকের সুরক্ষা উপেক্ষিত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ

0
160

হোটেল-রেস্তোঁরা, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, পর্যটন পরিবহন, ট্যুর গাইডসহ পর্যটন খাতের ১১৯ টি ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য প্রণোদনার ঘোষণা দিয়ে বেতন-বোনাস পরিশোধের ব্যবস্থা এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি

শুধুমাত্র হোটেল-মোটেল-থিম পার্কের কর্মীদের বেতন ভাতা পরিশোধের জন্য সরকার ৪ শতাংশ সুদে ১ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করে এই খাতে কর্মরত মাত্র ৫ লক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীদের সুরক্ষায় কিঞ্চিত উদ্যোগ নিলেও পর্যটন খাতের ১১৯ টি ক্ষেত্রের সাথে যুক্ত অবশিষ্ট প্রায় ৩৫ লক্ষ কর্মীর সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষা করায় উদ্বেগ প্রকাশ এবং হোটেল-রেস্তোঁরা, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, পর্যটন পরিবহন, ট্যুর গাইডসহ পর্যটন খাতের ১১৯ টি ক্ষেত্রের কর্মিদের জন্য প্রণোদনার ঘোষণা দিয়ে বেতন-বোনাস পরিশোধের ব্যবস্থা এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়ে পত্রিকায় প্রকাশের জন্য বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ্ওয়ার্কার্স-এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের আহবায়ক রাশেদুর রহমান রাশেদ এবং সদস্য সচিব আহসান হাবিব বুলবুল।

নেতৃবৃন্দ বলেন, পর্যটন শিল্প বাংলাদেশের একটি বিকাশমান খাত আর দক্ষ পর্যটন কর্মীরা এই খাতের প্রাণ। করোনা সংক্রমণের প্রেক্ষিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্যতম পর্যটন শিল্প এবং পর্যটন শিল্পে নিযুক্ত প্রায় ৪০ লক্ষ কর্মী। স্বকর্মে নিয়োজিত অংশ প্রায় দেড় বছর ধরে সম্পূর্ণ উপার্জনহীন আর হোটেল, মোটেল, রেস্তোঁরার অধিকাংশ শ্রমিক ছাঁটায়ের শিকার বা বিনা বেতনে বাধ্যতামূলক ছুটিতে মানোবেতর জীবন কাটাচ্ছে। এই অসহায় কর্মীদের সুরক্ষাসহ পর্যটন শিল্পের বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কার্স-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন বছরাধিককাল ধরে ধারাবাহিক ভাবে সংগ্রাম পরিচালনা করে আসছে। গত ১৩ জুলাই সরকার হোটেল, মোটেল ও থিম পার্কের শ্রমিকদের অর্থাৎ পর্যটন আবাসন ও বিনোদন খাতের আংশিক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য মালিকদের ৪ শতাংশ সুদে মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন যা হোটেল মালিকদের সদিচ্ছা থাকলে মাত্র ৫ লক্ষ শ্রমিককে কিছুমাত্রায় সুরক্ষা দেবে। সরকারের এই ঘোষণায় রেস্তোঁরা, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, পর্যটন পরিবহন, ট্যুর গাইডসহ পর্যটন খাতের ১১৯ টি ক্ষেত্রের অবশিষ্ট প্রায় ৩৫ লক্ষ শ্রমিকের সুরক্ষা উপেক্ষিত হয়েছে যার ফলে সরকারের ঘোষিত এই প্রণোদনা পর্যটন খাতের সুরক্ষায় ফলপ্রসু হবেনা।

নেতৃবৃন্দ পর্যটন আপ্যায়ন, পর্যটন পরিবহন ও পর্যটন এনসিলারী সার্ভিসেসের খাতসমুহ সুনির্দিষ্ট করে এবং সকল পর্যটন কর্মীর ডাটাবেজ তৈরী ও তাদের প্রণোদনার আওতায় এনে বেতন-ভাতা পরিশোধের ব্যবস্থা করা আর স্বকর্মে নিয়োজিতদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনার শুরু অর্থাৎ ২০২০ সালের মার্চ থেকে হোটেল, মোটেল, রেস্তোঁরার যে সকল শ্রমিককে বিভিন্ন অজুহাতে ছাঁটাই বা বাধ্যতামূলক বিনাবেতনে ছুঁটিতে পাঠানো হয়েছে তাদের প্রত্যেকের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে কিনা বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ্ওর্যার্কাস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন তা তিক্ষè নজরে পর্যবেক্ষণ করবে।

নেতৃবৃন্দ, ঈদের আগেই হোটেল-রেস্তোঁরা কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য রেস্তোঁরা মালিকদের প্রতি আহবান জানান এবং প্রায় ৩০ লক্ষ রেস্তোঁরা কর্মীদের বেতন-ভাতা আদায়ে কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি জরুরী ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানান।