বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন, ২০২১) সংশোধন করতে হবে।

0
253

ভূমিকা:- শুধুমাত্র পর্যটকদের স্বার্থরক্ষার জন্য কেন আইন হবে? আইনের দ্বারা ট্যুর অপারেটর এবং ট্যুর গাইডের স্বার্থরক্ষাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ফ্রি ল্যান্সার হিসাবে বা কোন প্রতিষ্ঠানে ট্যুর গাইড হিসাবে কাজ করা পর্যটনের শ্রমিক ট্যুর গাইডদের শাস্তির বিধান করে আইন করা মানে বিকাশমান পর্যটন শিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা ছাড়া আর কিছুই নয়। ট্যুর গাইড বলতে ব্যক্তিকে বুঝায় কোন প্রতিষ্ঠানকে নয়। ট্যুর অপারেটর বলতে প্রতিষ্ঠানকে বুঝায়। ট্যুর গাইডরা হচ্ছেন মূলত শ্রমিক শ্রেণীর। ফ্রি ল্যান্সার হিসেবে আত্ম কর্মসংস্থান বা কোন ট্যুর অপারেটর ও ট্টাভেল এজেন্সিতে মজুরীর বিনিময়ে শ্রমিক কর্মচারী হিসেবে চাকরি করে থাকে। ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড এক কথা নয়। সংজ্ঞায় রয়েছে আকাশ পাতাল পার্থক্য। ট্যুর গাইড বা ট্যুরিষ্ট গাইড বা ভ্রমণ নির্দেশনাকারী হল এমন ব্যক্তি যিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যাদুঘর, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানগুলিতে ঘুরতে যাওয়া লোকদের ঐ স্থানগুলির সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং সমসাময়িক ঐতিহ্যের উপর তথ্য সরবরাহ করেন।

মূলপ্রবন্ধ:- বাংলাদেশের ৫০তম স্বাধীনতার আনন্দ ভাসছে ২০২১ সাল। বাংলাদেশের বেকারত্ব ঘোচাতে মহা সম্ভাবনাময় শিল্পের নাম পর্যটন। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পর্যটন মন্ত্রী, পর্যটন মন্ত্রণালয়, ট্যুরিজম বোর্ড, পর্যটন করপোরেশন, পর্যটন ব্যবসায়ী সংগঠন, পর্যটন শিক্ষক, পর্যটন বোদ্ধা, পর্যটন সাংবাদিক, পর্যটন পেশাজীবী সকলে বলছে এই সেক্টরে কর্মরত ৪০/৪৫ লক্ষ মানুষ। আর তাদের পরিবারের সদস্য ধরলে ২/২.৫ কোটি মানুষের রুটি রুজি এই সেক্টর এর সাথে যুক্ত। একদিকে দেশের অধিকাংশ শ্রমিক বিদ্যমান শ্রম আইনের আওতার বাইরে।

এটা অনেকটা এই সময়ে চলমান অবস্থার মত, স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গের দায়ে গ্রেফতার কৃতদের রাখা হচ্ছে গাদাগাদি করে যেখানে স্বাস্থ্যবিধির কিচ্ছু নাই! যারফলে করনা ঐ মানুষের মাঝে বেশি হচ্ছে, অনেকটা তাদের বাধ্য করাহচ্ছে করনা নিয়ে বাড়ি ফিরতে। আইন কোনো রিলিফের চাউল নয় যে নেতার ইচ্ছে মত বিতরণের মাধ্যমে সমাপ্তি দেখিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে টাকা পকেটে নিয়ে বাড়ি যাবেন। ইহা সংবিধান দ্বারা নির্দিষ্ঠ বিধি দ্বারা উল্লেখিত বিবরণ ও ব্যাখ্যা করে প্রজ্ঞাপন এর মাধ্যমে দেশ ও জনগনের জন্য প্রণীত হয়। আর আমাদের দূর্ভাগ্য আলোচ্য বিষয়ে পর্যটন খাতের কিছু অযগ্য তেলবাজ ও তোষামোদকারী ব্যক্তিদের থেকে মতামত নেয়া হয়। যার ফলাফল বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন, ২০২১ এর খসড়া।

বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন, ২০২১) এর ২নং দ্বারা উপ দ্বারা ৩ ও ৪ সঠিক ভাবে সংজ্ঞায়িত করা হলেও ৪ নং দ্বারায় নিবন্ধন সনদ ব্যতীত ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড সেবা পরিচালনার উপর নিষেধাজ্ঞা, এবং ৫নং নিবন্ধন সনদ এর জন্য আবেদন প্রক্রিয়ায় বিষয় টিতে ব্যপক সংসাধন করা জরুরি। ১২ নং ধারায় অপরাধ ও দন্ড -৬ (ছয়) মাস কারাদন্ড ও অনধিক ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দন্ডিত করার কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া এর ১৮নং দ্বারার ২নং উপ দ্বারায় এই আইন অধীন বিচার ও কার্যধারা ক্ষেত্রে, Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1998) -এর বিধানাবলি প্রযোজ হইবে বলা হয়েছে। ইহা বাংলাদেশের উজ্জ্বল পর্যটন সম্ভাবনা ও ৪৫লক্ষ পেশাজীবীর মনবল ও বিনিয়োগ কে ইতিমদ্যই কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছে। যা এই শিল্পের সাথে জড়িতদের সাথে রাষ্ট্রের উপহাস ছাড়া কিছুনয়। ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড নিবন্ধন ও পরিচালনা আইন, ২০২১ এর খসড়া থেকে ট্যুর পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল শ্রেনীর লোকের শাস্তির বিধান বাতিল করা হউক ।

পর্যটন কেবল কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির সঞ্চারের বিষয় নয়, বরং এখন মানব জীবনের অন্যতম প্রধান বিষয়। তাই গন প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসরকারি বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী, বেসরকারি বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান, বেসরকারি বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ট্যুরিজ্ম বোর্ড এর সিইও, প্রাইভেট সেক্টর থেকে নিযুক্ত বাংলাদেশ ট্যুরিজ্ম বোর্ড এর সদস্য বৃন্দ আপনাদের সকলের কাছে বিনয়ের সহিত আবেদন, ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড নিবন্ধন ও পরিচালনা আইন, ২০২১ এর খসড়া আইনে ট্যুর অপারেটর এবং ট্যুর গাইডকে মিলে মিশে একাকার করা হয়েছে! এই আইন পাশ হওয়ার আগে গাইডদের নিবন্ধন পদ্ধতি পরিস্কার করুন, তারপর আইন করুন। কারন ট্যুর গাইডিং পেশা ফ্রীল্যান্সিং শ্রমিকের মতো, এখানে ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান একটি কোম্পানি। সুতরাং ২ টা আলাদা বিষয়।

পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং এ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আমাদের সংস্কৃতি, সুরক্ষা, পর্যটন পরিবহন-বিমান, আবাসন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সেবাদান নিশ্চয়তার পর্যটনবান্ধব সুবিধাগুলি। যা রাষ্ট্র, শিল্প বিনিয়োগকারী ও শ্রমিক কর্মচারীরা যৌথভাবে করে থাকে। ভ্রমণ এবং পর্যটন প্রতিযোগিতা মূলক প্রতিবেদনে বিমান পরিবহন, আবাসন, সুরক্ষা, সংস্কৃতি এবং পর্যটকদের স্থিতিশীল ভ্রমণের মতো পর্যটনবান্ধব সুবিধাগুলির প্রাপ্যতার দিক দিয়ে বাংলাদেশ ১৪০ টি দেশের এর মধ্যে ১২০ তম অবস্থানে রয়েছে। ফ্রি ল্যান্সার ট্যুরিস্ট গাইড বা ট্যুর গাইড, ট্যুর অপারেটর ,কোন যুক্তিতে আপনি ওদের শাস্তির আওতায় আনবেন? স্বাধীন ভাবে নিজের কর্মসংস্থান করে নিজ রুটি রুজির জোগার করা কি অপরাধ? এই খসড়া আইনে নিবন্ধন এর জন্য ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান এর ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন সার্টিফিকেট, অফিস ডিডের কপি, এসোসিয়েশন এর প্রত্যায়ন পত্র এবং হলফনামা দিতে হবে। বাট একজন গাইড এর নিবন্ধন এর জন্য কি জমা দিতে হবে তার উল্লেখ নাই এই খসড়ায়। আবার ৬ মাস জেল বা ২ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান উল্লেখ আছে। প্রস্ন হল একজন গাইড যেখানে দৈনিক শ্রমিক এর মত। সেখানে ট্যুর অপারেটর এর সাথে গুলিয়ে ফেলা কতটা যুক্তি যুক্ত। এতএব বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খসড়া আইনের সংশোধনী আনবেন। অন্যথায় আইন বিতর্কিত হবে। এখন এই আইন পাস হলে দেশের টুরিজম ইন্ডাস্ট্রির মিশে থাকা আমাদের ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান / গাইডরা অনেক বড় বিপদের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে।

শুধুই শাস্তি ! প্রণোদনা কোথায় ? ভারতের পর্যটন মন্ত্রীর ঘোষণা ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটর গন ১০ লক্ষ টাকা ও গাইডরা ১ লক্ষ টাকা করে ঋন পাবে। আমাদের জন্য কি? নৌ শ্রমিকরা যদি করোনা টিকা পায় তাহলে পর্যটন শ্রমিকদেরও টিকার ব্যাবসথা করা হয়নি কেন? কারন ট্যুর গাইডরা ও ট্যুর অপারেটর গন এই সেক্টরের প্রথম সারির মানুষ। আর ৫২টি দেশের মত বাংলাদেশ ও পর্যটন রপ্তানি করে সবথেকে বেশি আয় করতে পারে যদি সঠিক ভাবে সরকারি সহযোগিতা পায় । সারাদেশের ৩০০০ হাজার ট্যুরিস্ট গাইড পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায় জিবন যাপন করছে। দেশে প্রায় দুই শতাধিক নিবন্ধিত ট্যুরিস্ট গাইড রয়েছেন। অনিবন্ধিতদের এ সংখ্যা তিন হাজারের মতো। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) তথ্যমতে, করোনায় বাংলাদেশে পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট ৪ লাখের বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন।

১৯৭৩ থেকে ২০২১ এই ৪৮ বছরেও কি পর্যটন মন্ত্রণালয় ট্যুর অপারেটর আর ট্যুর গাইড এর পার্থক্য জানেনা? আর ২০১০ সালে তৈরিকৃত পর্যটন নীতিমালায় যেসকল অসংগতি আছে যারা এই নিয়োম করছে ওরা ইন্ডাস্ট্রির সাথে ভন্ডামী ও প্রতারনা করছে, তারা ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রির জন্য আসলেই কখনোই কল্যান মুলক কোন কাজ করেনি। ট্যুরিজম এডুকেটরস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টিয়াব) কর্তৃক আয়োজিত ” বিপর্যস্ত পর্যটন ও আমাদের করনীয় ” বিষয়ে আলোচনায় উপস্থিত চিলেন বিভিন্ন পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যগন তারা ও এই শিল্পের সাথে সম্পিক্ত মানুষের পশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। করোনাকালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র পর্যটন শ্রমিকদের সুরক্ষায় শ্রমআইন ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, সরকারের দায়িত্বশিলতার বিষয়গুলি তুলে ধরতে “বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কার্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর উদ্যোগে “কেমন আছে পর্যটন খাতের শ্রমিকরা- শ্রম আইনে, করোনাকালে”-শীর্ষক অনলাইন আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ, পর্যটনের ১১৯টি ক্ষেত্রের কর্মীদের শ্রমআইনের আওতায় আনা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দিয়ে পর্যটন ক্ষেত্রগুলি চালু করা এবং করোনাকালে প্রায় ১ বছর যাবত সম্পূর্ণ উপার্জনহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপনরত দক্ষ পর্যটন কর্মীদের পর্যটন পেশায় ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও আর্থীক সহায়তা প্রদান করার জন্য আহবান জানান।

রোহিঙ্গাদের চেনা যায়, আলাদা করে চেনা যায়। সময়ের সাথে সাথে আমরা হারিয়ে ফেলেছি অনেক জনপ্রিয়, ইন্ডাস্ট্রির ব্রান্ড, মার্কেট লিডার, যারা অস্তিত্ব সংকটে পড়ে মার্কেট থেকে হারিয়ে গেছে। তাদের বিনিয়োগ এর কোন নিরাপত্তা দিতে পারেনি সরকার। এরা এদেশের ই মানুষ এদেশেই ছিলো। কিন্তু এদের আলাদা করে চেনা যায়না! আমরা ধর্ম দেখিনা, পোশাকও দেখিনা, আমরা তাদের ভেতরের মানুষটাকে দেখতে পেয়েছি, কতটা কষ্টে আছেন এই পেসার সাথে জড়িত মানুষগুলো।

উপসংহার: আসলেই জানতে ইচ্ছে করে করনায় পর্যটন? নাকি শুধু পর্যটনেই করনা? করোনা শুধু সারা বাংলাদেশের পর্যটন কেন্দ্র, হোটেল মোটেল রিসোর্ট, রেস্টুরেন্টে ঘুরাঘুরি করে এবং অপেক্ষায় থাকে কখন গেষ্টদের আক্রান্ত করবে? আসলেই একবার কি চিন্তা করে দেখেছেন কেমন আছে পর্যটন খাতের পেশাজীবী মানুষগুলো- করোনা কালে? মেধাবী ও উচ্চশিক্ষিত ছেলে-মেয়েরাই ট্যুর গাইড হন, অপারেটর হন অন্যের কাছে নিজের দেশকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেন। করোনাকালে এসব ট্যুর অপারেটর / গাইডের সুরক্ষায় ট্যুরিজম বোর্ড কিংবা মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এজন্য তারা অমানবিক কষ্টে দিন পার করছেন। আমরা বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট গাইড অ্যাসোসিয়েশন আশা করব, মন্ত্রণালয় তাদের পাশে দাঁড়াবে। অন্যথায় এসব ছেলেমেয়ে পেশা পরিবর্তন করলে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দক্ষ অপারেটর / ট্যুর গাইডের সংকট দেখা দেবে। ট্যুরিজমের পাশে আসুন। ট্যুরিজম কে বাঁচান। এই সেক্টরের সাথে অনেক গুলো পরিবারের আয়ের সম্পর্ক। বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট গাইড অ্যাসোসিয়েশন এখনই বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যার মধ্য উচ্চতর প্রশিক্ষণ, খাদ্য সহায়তার চেষ্টা ও পুনর্বাসন অন্যতম। আমাদের সবার প্রচেষ্টার কারনে সকলকে নিয়ে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে বলে আমি মনেকরি।
হে আমার সোনার বাংলা ঐতিহ্য- গৌরবে চিরভাস্মর তোমার নাম।

পর্যটন এর সোনালী দিনের প্রত্যাশ্যায়

কিশোর রায়হান

আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক
বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট গাইড অ্যাসোসিয়েশন (বিটিজিএ)