পর্যটনে নারী উদ্যোক্তা ফাতেমা

0
572

ভুমিকাঃ ‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ পত্রিকা সব সময় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে এবং শিল্পের সাথে যুক্ত কিছু ব্যতিক্রমী মানুষকে তুলে ধরার প্রানান্তর চেষ্টা করে, এবং সেই মানুষ গুলোর পর্যটন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার লড়াই কে সম্মান জানিয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে। আজ তুলে ধরবো তেমনি একজন ইন্টোরিয়র ডিজাইনার , অর্গানিক ফুড প্রডিউসার এবং হোমমেইড ফুড ব্যবসায়ী, পর্যটন উদ্যোক্তা মীর ফাতেমা আক্তারকে।

ফাতেমার জন্ম হয়েছে পৈতৃক নিবাস অতীশদিপংকর, স্যার জগদীসচন্দ্র বসু ও ব্রোজেনদাস এর মত মনিষীদের জন্মস্থান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে ১৯৭৬ সালে । স্কুল জীবন হয় চট্রগ্রামের “বাওয়া” স্কুলে শুরু হলেও পরবর্তীতে পরিবারের সাথে চলে আসেন ঢাকায়। ১৯৯১ সালে ঢাকার মগবাজার গালর্স হাই স্কুল এসএসসি পাস করেন এবং ১৯৯৩ সালে সিদ্ধেশ্বরী গালস কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।এরপর ১৯৯৫ সালে ইডেন কলেজ থেকে বিকম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে এমকম পাস করেন। ২০০২ সালে সি.এ আর্টিকেল সম্পূর্ন করেন। বাবা ছিলেন সরকারী প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা ও ভাই ফটো সাংবাদিক। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে ফাতেমা সবার ছোট। সিএ আর্টিকেল শেষ করার পর স্বনামধন্য একটি কোম্পানীতে উচ্চপদে যোগ দেন এবং সেখানে সিএফও হিসেবে চাকুরী করেন প্রায় ১৫ বছর। চাকুরীর পাশাপাশি উনি বিভিন্ন ধরনের ব্যবাসাতে নিজেকে নিয়জিত রাখেন।

২০১৬ সালে ইন্টোরিয়র এর উপর ডিপ্লোমা করেন এবং সেবছরই RF I Solution এর সিওও হিসাবে ব্যবসা শুরু করেন। নান্দনিক বিভিন্ন ডিজাইন করেছেন বিভিন্ন ফ্লাট, অফিস, বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের। তার আরেকটি প্রতিষ্ঠান হলো RF Organic Food. নিজস্ব তত্ত্বাবধায়নে তৈরী করেন অর্গানিক ঘি, সরিষা তৈল, বিভিন্ন ধরনের সস, আচার এবং বিভিন্ন গুড়া মসলা। শশুরবাড়ী পাবনা হওয়ায় সেখানকার অর্গানিক খামার হতে খুব সহজেই এই খাদ্য পন্যগুলো তৈরী করতে পারেন। তা ছাড়া ঘরে তৈরী বিভিন্ন খাবার বিশেষ করে ফাতেমার ফ্রোজেন ফুড বেশ জনপ্রিয়।

ট্যুরিজমের প্রতি ফাতেমার আগ্রহ সীমাহীন। ঘুরেছেন বিভিন্ন দেশে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন RF Tours & Travels নামে এজেন্সি। তাছাড়া টুরিজমের উপর বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং করেছেন। দীর্ঘদিন কর্পোরেট জগতে কাজ করার সুবাদে সেসকল অভিজ্ঞতা দিয়ে পরিচালনা করছেন তার সকল প্রতিষ্ঠান। তার স্বামী মোঃ রাসেল আহমেদ কর্পোরেট জগতে ছিলেন ১৮ বছর, তিনিও বর্তমানে ফাতেমার সাথে সকল প্রতিষ্ঠানের সাথেই যুক্ত আছেন। তাই দুইজনে মিলে চেষ্টা করে যাচ্ছেন দক্ষতার সাথে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য। পারিবারিক জীবনে এক কন্যা সন্তানের জননী। কন্যার বয়স ১৪ বছর, স্বামী, কন্যা, শশুর এবং শাশুড়ী নিয়ে থাকেন ঢাকাতেই। শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে রয়েছে ভালো দক্ষতা, বিভিন্ন কোম্পনির Stock Exchange Enlist এর জন্য কাজে করেছেন দীর্ঘদিন। একজন ট্যাক্স এডভাইজার হিসেবেও তার ভালো সুনাম রয়েছে। ব্যাক্তিগত ট্যাক্স ফাইল ও ট্যাক্স সংক্রান্ত বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন।২০১৮ সালে হজ্জ পালন করেছেন। তিনি বর্তমানে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) এর সদস্য
এবং ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)এর সদস্য।

উপসংহার; ‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ মীর ফাতেমা আক্তার এর উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করে এবং ভবিষ্যতে ফাতেমার যে কোন কাজের পাশে থাকার প্রানান্তর চেষ্টা করে তার সোনালি স্বপ্নকে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে দিতে সর্বদা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছে। ফাতেমার এই এগিয়ে চলার ও সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে পুষ্পিত পল্লবের মত ছড়িয়ে পড়ুক সহস্র নারীর মাঝে।