পর্যটনে নারী উদ্যোক্তা তুলি

0
884

ভূমিকাঃ ‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ পত্রিকা সব সময় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে এবং শিল্পের সাথে যুক্ত কিছু ব্যতিক্রমী মানুষকে তুলে ধরার প্রাণান্তর চেষ্টা করে, এবং সেই মানুষ গুলোর পর্যটন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার লড়াই কে সম্মান জানিয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে। আজ তুলে ধরবো তেমনি একজন রন্ধন শিল্পী, ফুড ক্যাটারিং ব্যবসায়ী, পর্যটন উদ্যোক্তা নাজমুন নাহার তুলিকে।

নাজমুন নাহার তুলি ১৯৯৪ সালে ১২ জানুয়ারি ঢাকা যাত্রাবাড়ী মির-হাজিরবাগে জন্মগ্রহণ করেন এবং বেড়ে ওঠেন।পৈতৃক নিবাস যমুনা বিধৌত সিরাজগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত গ্রামে।বাবা প্রবাসী , মা গৃহিণী। তুলিরা দুই বোন, এর ভিতর তুলি হচ্ছে বড়। শৈশব এবং কৈশোর কেটেছে ঢাকার মির-হাজীরবাগ নানার বাড়িতে। সায়দাবাদ ব্রাইট স্টার কিন্ডার গার্ডেনে স্কুল জীবনের হাতেখড়ি, এরপর যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল হাই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০১২ সালে এস.এস.সি পাস, এরপর মিরপুর ট্রমা সেন্টারে মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্স(মাটাস) এ ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হলেও হোস্টেল জীবন ভালো না লাগায় পড়াশোনা বন্ধ করেন। পরিবার যাত্রাবাড়ী থেকে সানারপাড় তুলিদের নতুন বাড়িতে চলে আসেন।

২০১৩ সালে সানারপাড় রওশন আরা কলেজে এ মানবিক বিভাগে ভর্তি হলে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর নিজেকে আসলে অন্য ভাবে আবিষ্কার করেন তুলি। বিয়ের পর শুরু হয় একটা নতুন যুদ্ধ, শ্বশুর বাড়িতে টিকে থাকা এবং নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ। অনেক যুদ্ধ করে তুলি এইচ.এস.সি পাস করেন।বিয়ের পরই বুঝতে পারে একটা মেয়ে কতটা অসহায় এবং তখন তুলির ভিতর অসহায় বোধ থেকে স্বাবলম্বী হওয়ার তীব্র বাসনা তৈরি হয়। ২০১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর পুত্র সন্তান জন্ম দান করেন এবং শ্বশুর বাড়ির সাথে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে।

নিজ অস্তিত্বের যুদ্ধ চালিয়ে ২০১৫-১৬ সেশনে শেখ বোরহান উদ্দিন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজে সমাজকর্ম বিভাগে ভর্তি হন এবং সন্তান সহ বাবার বাসায় থাকতে বাধ্য হন। অনার্স ২য় বর্ষে একদিকে পড়াশোনার চাপ অন্যদিকে সন্তানের চিন্তা, অনেকটা হাঁপিয়ে ওঠেন তুলি। ভাবনার নানা বিষয়ের মধ্যে ফুড ক্যাটারিং চলে আসে। ছোট থেকেই রান্না করতেন মায়ের সাথে এবং রান্না করে কাউকে খাওয়াতে খুব আনন্দ পেতেন। কিন্তু কিভাবে ফুড ক্যাটারিং এর ব্যবসা শুরু করবেন, প্রথমে তা বুঝতে পারছিলেম নাহ। পরে ধীরে ধীরে রিসার্চ শুরু করেন, ভার্চুয়াল জগত থেকে ধারনা নিতে থাকেন। ভার্চুয়াল জগত থেকে কিছু ধারনা হলে ২০১৭ সালে তুলি পান্থপথে অবস্থিত আপডেট কলেজে হোটেল ম্যানেজম্যান্ট এ ডিপ্লোমাতে ভর্তি হন ২বছরের কোর্সে। ১ বছর পর আবার ছন্দপতন ঘটে, পড়াশোনা বন্ধ করতে হয়। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ হোটেল ম্যানেজম্যান্ট থেকে সরকারি ভাবে SIEP কোর্স করেন এবং SIX SEASON হোটেল থেকে ইন্টার্ন করার অনুমতি পান বেকারি অ্যান্ড পেষ্টি এর উপর। বেবি থাকার কারণে পরবর্তীতে চাকরি করা সম্ভব হয়নি।

২০১৭ সালে ছেলের প্রথম জন্মদিনে ফুড ক্যাটারিং বিজনেস করার ভাবনায় (Ayaan’s cooking world) নামে অনলাইন পেজ ওপেন করেন। এবং খুঁজতে থাকেন নতুন দিনের সূচনার উপায়। কিছু অনলাইন পেইজ এর কিছু অনলাইন বেজড সংগঠন এর সাথে যুক্ত হন। ২০১৯ সালে তুলি প্রথম টিভি শো করার সুযোগ পান, বিটিভি’তে কুকিং শো এর মাধ্যমে। জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত নিলুফার ইয়াসমিনের সংগঠন প্রত্যাশা হ্যান্ডিক্রাফট এন্ড গ্লামার ওয়ার্ল্ড বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করছেন।

২০১৯ এ অনলাইন রেডিও স্বদেশ এ নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ইন্টার্ভিউ প্রকাশ পেলে বিজনেস একটু বারতে থাকে।কল্পনা মিডিয়া অনলাইন ম্যাগাজিন তুলির একটা ছোট বায়োগ্রাফি বের হয় এবং একটি মাল্টিন্যাশনাল ব্রান্ড এর ফুড এম্বাসেডর হন। তারা বেশ সম্মানিত করে এবং ক্রেস্ট দেন। অনেক ছোট ছোট গ্রুপ এর সাথেও কাজ করেন বর্তমানে। এখন ফুড ক্যাটারিং বিজনেস নিয়েই তুলির মুল ভাবনা। গ্যাপ দিয়ে হলেও আবার পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন, বর্তমানে অনার্স শেষ বর্ষে আছেন। তুলির বক্তব্য আমার লক্ষ আমি পেয়ে গেছি এখন শুধু লক্ষের দিকে এগিয়ে যাওয়া। ২০১৯ সালে ডিপ্লোমা মিষ্টির লড়াই প্রতিযোগিতা আমাকে নতুন স্বপ্নের প্রেরণা জুগিয়েছে।

উপসংহার; ‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ নাজমুন নাহার তুলির উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করে এবং ভবিষ্যতে তুলির যে কোন কাজের পাশে থাকার প্রাণান্তর চেষ্টা করে তার সোনালি স্বপ্নকে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে সর্বদা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছে। তুলির এই এগিয়ে চলার ও সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে পুষ্পিত পল্লবের মত ছড়িয়ে পড়ুক সহস্র নারীর মাঝে।