বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে নানা অনিয়ম

0
117
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ( Hazrat Shahjalal International Airport দুটি প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের আধুনিকায়ন প্রকল্পের কেনাকাটা প্রস্তাবে অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কক্সবাজার ও রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে উন্নয়নকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া অন্য বিমানবন্দরগুলোর হালহকিকত নিয়ে আজকের বিস্তারিত আয়োজন

দেশের বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অসংগতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেনারেল এভিয়েশন হ্যাঙ্গার স্থানান্তরে আড়াই বছর কেটে গেলেও কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। এর ফলে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের কাজও পিছিয়ে যাচ্ছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুটি প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের আধুনিকায়ন প্রকল্পের প্রকল্পে নানা অসংগতি এবং পণ্য ও সেবার দর প্রস্তাব অস্বাভাবিক হওয়ায় সম্প্রতি এটি চূড়ান্ত না করে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দর পর্যালোচনা করে, যেখানে বেশি ধরা হয়েছে তা কমিয়ে নতুন করে প্রস্তাব তৈরি করে তা আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য বিমানবন্দর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কাজের মান নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশের বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়নে বর্তমানে বেশ কিছু মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পাঁচ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে শক্তিশালীকরণ ও এয়ার ফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম স্থাপন, ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই হাজার ৭৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ ও রানওয়ে শক্তিশালীকরণ প্রকল্প, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পাঁচ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এখানে নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ ও রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯০০০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১২০০০ ফুট করার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজটি মুখ থুবড়ে পড়েছে এর প্রকল্পপরিচালকের (পিডি) দুর্নীতি, ব্যর্থতা ও অদক্ষতার কারণে। তাঁর জন্য সরকারের অপচয় হতে যাচ্ছে শত কোটি টাকার বেশি। প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে সম্প্রতি বরখাস্ত করা হয়েছে। ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পৃথক টার্মিনাল ভবন নির্মাণের কাজটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও এ কাণ্ড ঘটেছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নিচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘আমরা কক্সবাজার প্রকল্পে অনিয়মের কারণে প্রকল্প পরিচালককে বরখাস্ত করেছি। এটি দ্রুত করার জন্য গত বৃহস্পতিবারও আমাদের একটি উচ্চ পর্যায়ের টিম কক্সবাজার প্রকল্প পরিদর্শন করেছে। আমরা রাজশাহীতেও যাব। প্রত্যেকটি কাজ নিবিড় তদারকিতে রাখা হয়েছে।’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করেন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বেবিচককে নির্দেশ দেওয়া হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে বেবিচক বিভাগীয় মামলা করে। পরে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ খুবই স্পর্শকাতর। এতে গাফিলতি হলে তা আমাদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। সম্প্রতি কক্সবাজার বিমানবন্দরের প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা দরকার ছিল। অন্য প্রকল্পগুলোতেও কাজের মান নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এদিকে হযরত শাহজালালে তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরুর আগেই এর সম্ভাব্য ব্যয় বাড়ানো হয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। সরকারি ক্রয় কমিটির অনুমোদন শেষে নভেম্বরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে কয়েক কোটি টাকার উন্নয়নকাজে ব্যাপক অনিয়ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে অনিয়মের মাধ্যমে বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করায় কয়েক বছরের মধ্যে প্রাচীরটিই ভেঙে পড়ে। ড্রেন এবং সীমানাপ্রাচীর দুটিতেই নিম্নমানের কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লোকজন।

‘রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও নবরূপায়ণ’ শীর্ষক প্রকল্প নিয়ে সম্প্রতি এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রকল্পের সরবরাহ কাজে পিডাব্লিউডির ২০১৮ রেট শিডিউল অনুসরণ করতে হবে ও আইটেম নম্বর ডিপিপিতে উল্লেখ করতে হবে। বাজারদর বিশ্লেষণ ডিপিপিতে সংযোজন করতে হবে। ডিপিপি পুনর্গঠন করে আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

২০১৮ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও খুলনার খানজাহান আলী বিমানবন্দরের মূল কাজ এখনো শুরুই হয়নি। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় এখনো মূল কাজই শুরু হয়নি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আগে যে পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল তা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ করতে হয়। এতে ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত জটিলতায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।’

https://www.kalerkantho.com/