ধ্বংসের পথে ময়মনসিংহের প্রাচীন স্থাপনা

0
218

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার আধিক্য থাকলেও বিকশিত হচ্ছে না ময়মনসিংহ জেলার পর্যটন শিল্প। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় দিনদিন ধ্বংস হতে চলেছে প্রাচীন স্থাপনাসমূহ। জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহকে আকর্ষণীয় ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশে গড়ে তোলার দাবি সংশ্লিষ্টদের। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এই অঞ্চলের পর্যটনে পৃষ্টপোষকতা বা পর্যটকদের সুযোগ সুবিধা খুবই সীমিত। তবে, বিএনপি নেতারা বলছেন, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে তারা ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর সৌন্দর্যবর্ধন করে আর্কষণীয় করবেন তারা। 

ময়মনসিংহ শহর, গৌরীপুর ও মুক্তাগাছায় জমিদারদের দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাগুলো দেখে পুলকিত হন দর্শনার্থীরা। জমিদারদের ব্যবহৃত জলসা ঘর, ঘুর্ণায়মান মঞ্চ, শশীলজ, আলেকজান্ডার ক্যাসেল ও জোড়া মন্দিরে রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্যকলার অপূর্ব নিদর্শন। এছাড়া ময়মনসিংহ শহরের জয়নুল সংগ্রহশালা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশালের নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র, ভালুকা ও ফুলবাড়িয়ার লালমাটির বনাঞ্চলকে ঘিরে রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। 

কিন্তু এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেই সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে। প্রাচীন স্থাপনাগুলো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

 এক দর্শনার্থী বলেন, ‘সরকারের এত বেশি উদাসিনতা ছিলো যে এটা রক্ষা করার কোনো প্রয়োজনই বোধ করে নাই।’

আরেক দর্শণার্থী বলেন, ‘এগুলোকে আরও পুনর্বিন্যাসিত করা উচিত। যাতে লোকে এসে কিছু দেখতে পারে।’


আরেকজন বলেন, ‘পাঠ্যপুস্তকের সঙ্গে যেহেতু এগুলো সম্পর্কীত, তাই এগুলো সংরক্ষণ করা উচিৎ।’ 

জেলার সকল দর্শনীয় স্থানসমূহ আকর্ষণীয় ও পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলতে জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নেয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের।

ময়মনসিংহ ট্যুরিজম ক্লাবের সভাপতি মো. শফিউল্লাহ বলেন, ‘সরকারিভাবে উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তারা যারা রয়েছেন, তারাও যদি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলেন। তাহলেও ময়মনসিংহ অঞ্চল অনেক সমৃদ্ধ হবে।’  

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এই অঞ্চলের পর্যটনে পৃষ্টপোষকতা বা পর্যটকদের সুযোগ সুবিধা খুবই সীমিত। তবে, বিএনপি নেতারা বলছেন, ক্ষমতায় গেলে তারা ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর সৌন্দর্য্যবর্ধন করে আর্কষণীয় করবেন।  

মুক্তাগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কে এম খালিদ বাবু বলেন, ‘অবকাঠামো গত উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ করলে পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন ঘটবে।’

মুক্তাগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন বাবলু বলেন, ‘পুরান ঐতিহ্যটাকে যদি উঠিয়ে আনতে পারি, আর যদি নিরাপত্তা দিতে পারি, তাহলেই পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারবো।’ 

সরকার উদ্যোগ নিলে এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। 

প্রতিবেদক: জগলুল পাশা রুশো somoynews