পর্যটনে নারী উদ্যোক্তা সাহানা

0
32

ভুমিকাঃ ‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ পত্রিকা সব সময় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে এবং শিল্পের সাথে যুক্ত কিছু ব্যতিক্রমী মানুষকে তুলে ধরার প্রানান্তর চেষ্টা করে, এবং সেই মানুষ গুলোর পর্যটন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার লড়াই কে সম্মান জানিয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে। আজ তুলে ধরবো তেমনি একজন রন্ধন শিল্পী, ফুড ক্যাটারিং ব্যবসায়ী, পর্যটন উদ্যোক্তা সাহানা সুলতানাকে।

সাহানার জন্ম হয়েছে পৈতৃক নিবাস পুরান ঢাকার নারিন্দা এলাকায় ১৯৭৪ সালে । ছোট থেকে বড় হয়েছেন পুরান ঢাকাতেই। তেমন জাকজমক বা চাকচিক্যে লালিত না হলেও বাবা মার প্রথম সন্তান হওয়ায় বেশ আদরেই বেড়ে উঠেছেন।পুরান ঢাকার লোকজন খাওয়া দাওয়ায় বেশ সৌখিন হওয়ায় ওনার বাবা জনাব আকবর আলীও পিছিয়ে ছিলেন না। অনেক রকমের রান্নার আয়োজন চলতো তাদের বাসায়।ওনার বাবা চাচা এবং ভাইরা হোটেল বিজনেস পেশায় জড়িত ছিলেন। ২ বোন ২ ভাইএর সংসারে সাহানা ছিলেন বড়।

সাহানা টিকাটুলিতে অবস্থিত শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয় থেকে ১৯৯০ সালে এসএসসি করেন। এরপর গোপীবাগ লেনস্থ সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ থেকে ১৯৯২ সালে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৯৪ সালে ঐ একই কলেজ থেকে বি,এস,সি পাশ করেন।

https://www.facebook.com/groups/hammocktourismbd/?ref=share

পড়াশোনার অগাধ ইচ্ছা থাকাসত্ত্বেও আর বেশি দূর পড়া হয়নি। ১৯৯৫ সালে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় সাহানার। বিয়ের পর সংসার জীবনে এক সম্ভবনাময়ী নারী কখনো চাকুরী বা বিজনেস করার কথা ভাবতে পারেন নি।


এবার আল্লাহ সহায়। আর পিছিয়ে পড়তে হয়নি।
আচারে বেশ ভালো সারা পেলেন।অনেক অর্ডার আসতে থাকে বিভিন্ন মাধ্যম হতে,,পাশাপাশি দেশীয় খাবারেও ব্যপক পরিচিতি পান।


বর্তমানে তিনি তিন সন্তানের জননী। সংসার জীবনে তেমন সুখী ছিলেন না এই নারী।
স্বামীর নানান ধরনের নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালে দীর্ঘ ২২ বছরের সংসারের অবসান ঘটিয়ে ৩ সন্তানকে বুকে নিয়ে সন্তানদের শেষ সম্বল নিজ বাসায় এসে আশ্রয় নেন।তখন থেকেই সংগ্রামী জীবনের শুরু।
২০২০ শালে নানান প্রতিকুলতার মাঝে কিছু লেডিস আইটেম নিয়ে ফেসবুকে পেইজ খুলে কাপড় বিক্রি উদ্দেশ্যে উদ্দোক্তা জীবনের সুচনা করেন।
বিধিবাম সেখানেও তেমন সারা না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। করোনার কবলে যখন সারা বিশ্ব আতংকিত তখন একজন নতুন উদ্দোক্তা হয়ে কতটুকুই বা করতে পারতেন।
অবশেষে পৈত্রিক ভাবে রপ্ত করা শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে আচার ও হোমমেড ফুড নিয়ে আবার ও উঠে দাঁড়ান সেই নারী।

বাইরে গিয়ে চাকরি করা সাহানার পক্ষে সম্ভব না বাচ্চাদের রেখে । তাছাড়া তিন সন্তানের সকল দায় দায়িত্ব তার উপর।সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লক্ষে তাকে নিরলস পরিশ্রম করতে হয়।সাহানা রান্না নিয়ে কিছু করা বা হোমমেড ফুড ক্যাটারিং বিজনেসকে অনেক দূর নিয়ে যেতে চান। কারণ এই একটা কাজই আছে, যেটা নিয়ে সাহানা বাসায় থেকে কাজটা করতে পারবেন। কিন্তু ওনার কোন প্রফেশনাল কোর্স করা নাই।

সাহানা ২০২১সালে “Amma kitchen ‘ নামে অনলাইন বেজড হোমমেড ফুড ক্যাটারিং এর ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে বেশ ভাল বিজনেস হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ক্লাস পার্টিতে, জন্মদিনের পার্টিতে, গেটটুগেদার পার্টিতে ইভেন্ট গুলোতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন । “Amma kitchen’ থেকে নিয়মিত পরিবেশন হওয়া খাবার গুলোর মধ্যে মোরগ পোলাও, চিকেন বিরিয়ানী, বিফ বিরিয়ানী, কাচচি বিরিয়ানী,তেহারী,কাবাব, ফ্রজেন ফুড, চিকেন রোস্ট, চিকেন টিকিয়া,নেহারী, পিঠা,বার্গার,পরোটা স্পেশাল চা,ঢাকাইয়া বিভিন্ন খাবার,বিভিন্ন সিজনাল আচার সহ আরো বেশ কিছু রুচিশীল খাবার। তিনি প্রতিদিন অফিস লাঞ্চ দিচ্ছেন।


ঈদ,, পুজা,রমজান উপলক্ষে নানান কাস্টমাইজ খাবারের অর্ডার নিয়ে অনলাইনে বেশ ভাল সেল করেন । তার স্বপ্ন আচার ও হোমমেড খাবারের নিয়ে একটা দোকান দিবেন। তিনি এই স্বপ্নের মাঝে প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।

উপসংহার; ‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ সাহানা সুলতানার এর উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করে এবং ভবিষ্যতে সাহানার যে কোন কাজের পাশে থাকার প্রানান্তর চেষ্টা করে তার সোনালি স্বপ্নকে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে দিতে সর্বদা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছে। সাহানার এই এগিয়ে চলার ও সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে পুষ্পিত পল্লবের মত ছড়িয়ে পড়ুক সহস্র নারীর মাঝে।