আড়ালে থেকে যাওয়া ট্যুরিজম সিন্ডিকেট ব্যবসা

0
314

আড়ালে থেকে যাওয়া সিণ্ডিকেট নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন মেহেদি হাসান।

গত বছরেও মুক্ত পাখি ছিলাম কিন্তু এখন অফিস নামের কারাগারে বন্দী। তাই যেকোনো ট্যুর প্ল্যানিং করতে হয় খুব হিসেব করে। কবি বলেছেন, ‘কারাগারে থেকেও ট্যুর প্ল্যানিং করে যে জন, সেই পারিবে ঘুরিতে যেকোনো ক্ষণ’! তবে কবি এই কথাটা যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলেননি, সেটা গত কয়দিনেই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি!

সামনের মাসে একটা স্যান্ডউইচ লীভ আসছে। সেই হিসেবে এই মাসের শুরু থেকেই প্ল্যান করেছিলাম সেন্টমার্টিন যাব। খোঁজখবর নেয়া শুরু করলাম কবে সেন্টমার্টিনের শিপ ছাড়বে? অক্টোবরের প্রথম দিকেই শিপ ছাড়ার কথা কিন্তু রাজাকার আবহাওয়ার কারণে শিপ আর চালু হল না। জানতে পারলাম অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ছাড়বে। আবহাওয়ার ঘুটিবাজির কারণে এটাও হল না। এরপর জানা গেলো অক্টোবরের শেষ সপ্তায় শিপ ছাড়বে। এবার শিপ ছাড়বেই ছাড়বে, দরকার হলে ট্রলার দিয়ে টেনে নিয়ে যাবে- এমন কথাবার্তাও শুনলাম!

যাক, শিপ তো হবে কিন্তু সেন্টমার্টিন গিয়ে কি বীচে ঘুমাবো নাকি? তাই ১৫ অক্টোবর থেকেই শুরু করলাম কটেজ খোঁজা। ১৫ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই ১০ দিনে সেন্ট মার্টিনের এমন কোনো (তুলনামূলক ভালো এবং বীচের কাছে) হোটেল/কটেজ নেই যেখানে ফোন দেই নাই! প্রতিটা রুম নাকি বুকড! ঢালিউড রাজপুত্র বাপ্পির মুভি দেখেও এত টুইস্ট পাইনি, যতটা পেয়েছি এই ১০ দিনে! মানে যেখানে শিপ ছাড়ার ঠিক নাই, সেখানে সব হোটেল বুকড! অবশেষে লাস্টের দিন একটা পরিচিত হোটেলে ফোন দেই (পরিচিত দেখেই এতদিন ট্রাই করিনি, লাস্টে বাধ্য হয়েই ফোন দেয়া লাগলো / নাম উল্লেখ করা যাচ্ছে না সংগত কারণেই)। সেন্ট মার্টিনের বেশিরভাগ হোটেল নাকি ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলো বুকড নিয়ে ফেলেছে। পরে ওই পরিচিত ভাইয়ের মাধ্যমে একটা এজেন্সির নাম্বার নিয়ে ফোন দেই। সে বলে রুম দেয়া যাবে তবে রুম প্রতি ৩৫০০ টাকা লাগবে (এই রুমে আমি গতবছর ফ্রাইডে এবং সিজনের সময়েই ১৮০০ টাকাতে থেকেছি)!

তব্ধা খেয়ে বসে ছিলাম কতক্ষণ! যেখানে ৪০০০-৪৫০০ টাকাতেই ফ্রেন্ডসার্কেল গিয়ে ২ দিন থাকা যাবে সেখানে এজেন্সিগুলো পার পার্সন ৬০০০-৭০০০ করে নিচ্ছে, তাও আবার শুধু একরাত থাকা! অনেকে যাচ্ছেও এই টাকাতে। সেটা যাক, আমার কোনো সমস্যা নেই! তাছাড়া কিছু কিছু এজেন্সি আছে যারা বাজেট ফ্রেন্ডলি ট্যুর অর্গানাইজ করে দেয়, আমি তাদেরও সাপোর্ট দেই। আমার সমস্যা হচ্ছে এখন, যখন তারা আমাদের মতো সলো / ফ্রেন্ড গ্রুপ ট্রাভেলারদের জিম্মি করে ফেলছে!

এবছর শিপ ভাড়াও বাড়িয়ে দিয়েছে। একটা বার চিন্তা করুন, বরিশাল যেতে ডেক ভাড়া নেয় ২০০ টাকা, যেখানে কম-বেশি ২০০ কিলো পার হওয়া লাগে। আর টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন দূরত্ব কমবেশি ৪০ কিলোমিটার আর ভাড়া নিতো এভারেজ ৩০০ / ৩৫০ টাকা। এখন তো এটাও বেড়ে গেছে! (দূরত্বগুলো গুগোল ম্যাপ থেকে নেয়া, একটু কমবেশি হতে পারে)

আর কোনোরকম করে দ্বীপে পা দিলেই হচ্ছে! সমুদ্রের মাঝখানে থেকেও সমুদ্রের মাছ খেতে হচ্ছে ১০০-২০০ টাকা প্রতি পিস/টুকরা! রূপচাঁদা বা গলদা চিংড়ির দাম তো মাটিতেই নামে না! চাল, পানি সহ অন্য যে খাবার টেকনাফ থেকে নেয়া লাগে সেগুলোর দাম বেশি হলেও সমস্যা নেই কিন্তু মাছ/ডাব খাওয়া লাগে ডাবল টাকায়! 🙁

আমি হচ্ছি সেই মানুষ যে কয়দিন আগেও ফ্রেন্ডসার্কেলে গলা উঁচু করে বলতাম আগে দেশ থেকে শেষ করবো, পরে আল্লাহ্‌ তৌফিক দিলে বিদেশ যাব! কিন্তু টুরিস্ট প্লেসগুলোর গলাকাটাকাটিতে আমি ফেড আপ হয়ে আমিই কয়দিন আগে পাসপোর্ট করতে দিয়েছি!