বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ হোটেলে বিব্রতকর কিছু সময়

0
2304

হোটেল বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ -এ বিব্রতকর সময়

সমুদ্রের জলের চাইতেও কক্সবাজারে বর্তমানে আধুনিক হোটেলের সংখ্যা বেশি । সৈকতে দাঁড়ালে আর আগের মতো ঝাউবন দেখা যায় না , যতোদূর চোখ যায় বিস্তৃত হয়ে আছে আলোক্স্বজ্জিত দোকানে , বালুর পরিধি দিন দিন কমে যাচ্ছে । এত্তো এত্তো হোটেলের মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক নৈসর্ক ৷ তাতে করে মানসম্মত হোটেল বলতে যা বোঝায় তার সব ফ্যাসিলিটি এখানে সব হোটেলে রয়েছে তা অবশ্যই নয় ৷ শীত এলেই লোভনীয় অফারে ঠাসা থাকে সোস্যালমিডিয়া, এতে করে দেশের বা দেশের বাইরে থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকেরা খুব যে সঠিক সেবা পাচ্ছেন তা কিন্তু নয়৷ আকাশ ছোঁয়া খাবারের দামের সাথে যোগ হয়েছে অসুস্থ পরিবেশ, সব মিলিয়ে কক্সবাজার এখন ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য একটু আতংকের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷ আর কিছু পর্যটন প্লাস্টিকের ব্যবহার জানেন না, যত্রতত্র তারা ময়লা ফেলে চলেছেন৷
দীর্ঘ করোনা বিরতীতে ক্লান্ত পর্যটন ব্যবসা গেল সেপ্টেম্বরে চালু হলেও প্রফেশনালিজম বলতে যা বোঝায় তা দেখা গেল না কলাতলীতে অবস্থিত বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ হোটেলে ৷ নামের সামনে কারা বেস্ট লিখে দিয়েছিল সেটাও খুঁজে পাইনি ৷

ওয়েবসাইট ঘেটে ঢাকা থেকে বুকিং দিয়ে ২৪ ডিসেম্বর সকাল ৭ টায় বাস থেকে নামার পর প্রবেশের পথেই ঘটলো বিপত্তি ; রাস্তা ভর্তি খুড়োখুড়ির কাজ চলছে, ল্যাগেজ নিয়ে এবড়ো থেবড়ো পথ পেরিয়ে যাও বা হোটেলে পৌঁছাতে পারলাম কিন্তু ; গেস্ট রুম ছাড়েনি বলে অপেক্ষা করতে হলো, সেই ফাঁকে সৈকত ঘুরে নিলাম।

বীচ থেকে ফিরে বেলা ১২ টা, দেখলাম কেও ডাকছে না৷ বাচ্চাদের নিয়ে অধৈর্য্য না হয়ে উপায় ছিল না, ঢাকার অফিসে ফোন দিয়ে কাস্টমার কেয়ার অফিসার মিস্টার জুবায়ের সাহেবের সহোযোগিতায় রুম পেলাম ৷

রুমে ঢুকে দেখলাম Sea View Delux বলে যেটা দেওয়া হয়েছে সেটা আসলেও Hill view, আর রুমে এক্সট্রা কোন বিছানা দেওয়া হয়নি যার মূল্য ১ হাজার টাকা ধরা হয়েছিল ( tottal 7000 per night with pool + breakfast+ wifi)। পরে আবার তাদের ঢাকার অফিসে কথা বলে একটি বিছানা আনালাম৷ বুঝতে পারলাম তাদের নিজেদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব৷
এখানে ৪০/৫০% দিয়েই বুকিং দিতে হয়, তাই হোটেল ছেড়ে যাবার কোন সুযোগ নেই। তার মানে আপনি আগে থেকেই ধরা। রুমে মাত্র একটা সোফা , কিছুক্ষন পর পর এসি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেন্ট্রাল এসি, কন্ট্রোল আপনার হাতে নেই।
সব চাইতে ভয়ংকর ব্যাপার ঘটলো যখন আমি শাওয়ারের নিচে দাঁড়ালাম ; রুমের সাথে যে কাঁচের দেওয়াল দেওয়া আছে পুরোটাই ভিজিবল ; তার মানে আপনার শরীরের সমস্ত অবয়ব বাহির থেকে দেখা যাচ্ছে ৷ বাইরে আমার ১৬ বছরের ছেলে আর ৯ বছরের মেয়ে । তাহলে ভাবুন, যারা পরিবার বা বন্ধু বান্ধব নিয়ে থাকবে তাদের কতোটা বিব্রতকর পরিস্থিতি !!

আমরা আধুনিক হতে হতে কোন পথে যাচ্ছি নিজেরাও জানিনা, হোটেল ব্যবসা একটি সেবামূলক ব্যবসা যা থেকে আপনি সাধারণের যাত্রা পথের পূর্ণ সংগ দিতে পারবেন, কিন্তু কাওকে এতো বিপাকে ফেলে পয়সা নেওয়া সত্যি বড্ড বিরক্তিকর ।
সুইমিং পুলে নেমে ঘটলো আর এক বিপত্তি, কড়া শীতে ভীষণ ঠান্ডা পানি, এদের গরম পানির কোন ব্যবস্থা নেই আর পানিতে ময়লা, চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে এটা ফিল্টার করা হয়নি, বীচ থেকে ফিরেই সবাই নেমে যাচ্ছে পুলে আর সেই ময়লা ভাসছে ৷
জানিনা, এই হোটেলগুলো যখন তৈরি করা হয়েছিল ঠিকঠাক অডিট হয়েছিল কীনা, ওয়েস্টার্ন হেরিটেজের খাবারের মান বেশ ভালো কিন্তু এদের কাছে কোন সার্ভিস চাইলে আপনি সহজে পাবেন না ৷ অবশ্য, এমন হতে পারে আমি কোন প্রাডো থেকে নামিনি বলে সেই মূল্যায়ন আমার পরিবারের প্রতি করা হয়নি । তবে আমার ধারণা পর্যটনের চোখে সব পর্যটক সমান ।

রোদেলা নীলা
Executive Editor
The Tourism voice
Dhaka, Bangladesh
monory01@gmail.com