বাংলার তাজমহল

0
263

পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে অন্যতম ভারতের আগ্রার তাজমহল।

তার মত করে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পেরাব গ্রামে নির্মাণ করা হয়েছে বাংলার তাজমহল বা দ্বিতীয় তাজমহল।

নারায়ণগঞ্জের শিল্পপতি চলচ্চিত্রকার আহসান উল্লাহ মনি এই তাজমহল তৈরী করেন। ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাজমহলের নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়। বাংলার তাজমহল (Banglar Tajmahal) নির্মাণে আসল তাজমহলের সাথে সর্বোচ্চ মিল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।প্রতিদিন বহু লোক এই সৌন্দর্য অবলোকন করতে আসে।

আমারও খুব ইচ্ছা ছিল ,অতপর সৌভাগ্য হয়েছিল এটি দর্শন করার।

অতপর কোনদিন আনাড়ি হাতে ভ্রমণকাহিনী লিখতে বসব, সেটাও ভাবি নি কখনো!
কিন্তু “দ্যা ট্যুরিজম ভয়েজ” সেই সুযোগটা করে দিল।
কৃতজ্ঞতা জানাই…

লেখিকা ও তাজমহল

২০১৯ সালে ভর্তি হলাম বি.এস.সি ইন ফিজিওথেরাপিতে।সাইক কলেজ অব মেডিকেল সায়েন্স,মিরপুর।
ঢাকায় আসলাম।ঘুরতে চাইলাম কিন্তু তেমন সময় আর সুযোগ হয়ে উঠল না।ইচ্ছা ছিল ভ্রমণের শুরু টা হবে দৃষ্টিনন্দন অসাধারণ কোন দর্শনীয় স্থান দর্শন করার মধ্য দিয়ে!!!

আমার রুমমেট আপুর বিয়ে উপলক্ষ্যে গেলাম নারায়ণগঞ্জ।সঙ্গী হিসেবে ছিল আরও একজন বড় আপু।
তাজমহল দেখার ইচ্ছা তো ছিলই তবে
সুযোগ যে এত সহজে ধরা দিবে, ভাবতেই পারিনি।
বড় আপু প্রথমে রাজি হতে চাচ্ছিল না কিন্তু আমার বায়নার কাছে হার মানতে হলো।রিকশা নিলাম আমরা।
অনেকটা পথ রিক্সায় গেলাম।যাওয়ার সময়টা বেশ উপভোগ্য মনে হলো।


কিন্তু পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে রিকশায় অ্যাক্সিডেন্ট করলাম।আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বেঁচে গেলাম এবং তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।এই অবস্থায় আপু তো রুমে ফিরে আসতে চাচ্ছিল কিন্তু আমি নাছোড়বান্দা..!
রিকশা থেকে নেমে টিকেট নিলাম এবং ভিতরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে, ঘুরাফিরা শুরু করে দিলাম।ভেতরে ঢুকে যেন মনে হলো, এ এক নতুন জগৎ! প্রাণটা জুড়িয়ে গেলো।

তাজমহলের প্রধান ভবন দামি স্বচ্ছ পাথরে মোড়ানো। আগ্রার ন্যায় বাংলার তাজমহলের অভ্যন্তরে আহসান উল্লাহ মনি এবং তার স্ত্রী রাজিয়ার কবরের স্থান সংরক্ষণ করা আছে। আগ্রার তাজমহলের মতই মূল ভবনের চার কোণে চারটি বড় মিনার রয়েছে। আর ভবনের সামনে রয়েছে পানির ফোয়ারা, ফুলের বাগান এবং দর্শনার্থীদের জন্য ছায়া সুনিবিড় বসার স্থান। ডান পাশে রয়েছে নামাজের ঘর এবং ওয়াশরুম বা দিকে রয়েছে রেস্টুরেন্ট। যেখানে দেশি এবং বিদেশি সব খাবারই পাওয়া যায় এবং সব কিছুই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।

তাজমহল ভ্রমণ শেষে গেলাম এর পাশে নির্মিত পিরামিড দেখতে ।যার প্রধান আকর্ষণ মমি আর মিশরীয় রাজা বাদশাদের ব্যবহৃত জিনিসের আদলে তৈরি বস্তুসামগ্র।এছাড়া রয়েছে রাজমনি ফিল্ম সিটি স্টুডিও এবং রাজমনি ফিল্ম সিটি রেস্তোরাঁ, যেখানে যেকোন দর্শনার্থী চাইলে ছবি তুলতে পারেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য, ইন্দিরা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ভাস্কর্য, ২৫০ আসনবিশিষ্ট সিনেমা হল এবং সেমিনার কক্ষ।
এছাড়াও তাজমহলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রী, জামদানি শাড়ি, মাটির গহনাসহ আরও বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর দোকান।
কিছু কেনাকাটা করে খাওয়ার শেষে ফিরলাম।কিন্তু মন যেন তাজমহলের কাছেই পড়ে রইল…

সময়সূচী ও টিকেট মূল্য
বাংলার তাজমহল প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তাজমহল এবং পিরামিডের প্রবেশ মূল্য একসাথে পরিশোধ করতে হয়, শুধুমাত্র তাজমহল বা পিরামিড দেখার সুযোগ নেই। একই সাথে দুটি স্থান দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।জনপ্রতি প্রবেশ টিকেটের মূল্য ১৫০ টাকা।

কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাংলার তাজমহলের দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে যাওয়া সোনারগাঁগামী বাসে চড়ে মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে এসে সেখান থেকে সিএনজি বা অটোরিক্সায় জনপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা ভাড়ায় তাজমহল দেখতে যাওয়া যায়। অথবা রিক্সা নিয়ে যাওয়া যায়।রিক্সা ভাড়া ১৫০– ২০০। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ভৈরব, নরসিংদী কিংবা কিশোরগঞ্জগামী বাসে বরপা বাসস্ট্যান্ডে নামে সিএনজিতে করে বাংলার তাজমহল দেখতে যেতে পারবেন।

এই করোনা কাল শেষে যদি আল্লাহ সূস্থ্য রাখেন
তো আর দেরি কেন আপনারাও চলে আসুন…
স্বাদ নিন আগ্রার তাজমহলের ন্যায়!!!

লেখিকা: রওশন আরা খানম আফিফা
সাইক কলেজ অব মেডিকেল সাায়েন্স
২০/০৮/২০