কুষ্টিয়ায় ৩ দিনব্যাপী লালন মেলা উৎসব

0
104

কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে মরমী সাধক ফকির লালন সাঁইজির তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব ও গ্রামীন মেলা উৎসব পালন হয়। দোল পুর্ণিমার রাতে লালন শাহের মাজার একাডেমী চত্বরে তিনদিন ব্যাপী স্মরণোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

মার্চের ২০-২৩ তারিখ পর্যন্ত লালন মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া অক্টোবর এর ১৬ তারিখ, বাংলা ১লা কার্তিক। লালন সাইজি এর মৃত্যুবার্ষিকী। সেই উপলক্ষে কুষ্টিয়ার লালন আখড়ায় ৩ দিন ব্যাপী বিশাল মেলা হয় যা লালন মেলা (Lalon Mela) নামে পরিচিত। রাত ভর চলে লালন গানের আসর। বছরের এই ৩ টা দিন লালন আখড়া থাকে জমজমাট। লালন মেলা উপলক্ষে আখড়াবাড়ীর লালন মাজারকে সাজানো হয় নানা সাজে। প্রধান ফটক আর মূল মাজারে সাদা, লাল, নীল আলোকসজ্জা, বিশাল তোরণ নির্মাণ ও মাজারের বাইরে কালী নদীর ভরাটকৃত জায়গায় স্থাপিত লালন মঞ্চের সামনে বিশাল ছামিয়ানা টাঙানো হয়। আলোচনা মঞ্চের চারপাশ লালন মাজারের প্রধান রাস্তাজুড়ে বসে গ্রামীণমেলা। মেলায় নানা রকম গৃহসামগ্রী, কাঠের তৈরি সাংসারিক নানা জিনিসপত্র, গরম জিলাপি, পাঁপড় ভাজা, লালনের গানের সিডি, গেঞ্জি, শন পাঁপড়ি, আখের শরবত, খই-বাতাসাসহ হরেক রকম পসরা বসে।

প্রতিবারের আয়োজনে মরমী সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইজির অমর বানী ‘মনের গরল যাবে যখন, সুধাময় সব দেখবি তখন’ প্রতিপাদ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন একাডেমীর আয়োজনে এই স্মরণোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক ভাবে তিনদিন ব্যাপী স্মরণোৎসব ও গ্রামীন মেলা শুরু হয়ে তিন দিন চলে।

ভক্ত অনুসারীরা আগে থেকেই লালন আঁখড়ায় জায়গা করে নেয়। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাজার প্রাঙ্গণে বর্ণিল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কালিগঙ্গা নদীর তীরে বসে হরেক রকম পণ্যের গ্রামীন মেলা।

লালন মাজারের প্রধান খাদেম ফকির মোহম্মদ আলী বলেন, “জাত পাত ভুলে দেশ বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত অনুসারীরা আগে থেকেই আসতে শুরু করে ছেউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়ীতে”। 

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আসলাম হোসেন মেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে বলেন, “লালন স্মরণোৎসব ও গ্রামীন মেলাকে কেন্দ্র করে মাজার প্রাঙ্গন ও তার আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুরো মাজার এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকে। জেলা পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ এর পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকে। সেই সাথে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগণ সেখানে দায়িত্বে থাকে।