পর্যটনে নারী উদ্যোক্তা পপি

0
830

‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ পত্রিকা সব সময় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে এবং শিল্পের সাথে যুক্ত কিছু ব্যতিক্রমী মানুষকে তুলে ধরার প্রাণান্তর চেষ্টা করে এবং সেই মানুষগুলোর পর্যটন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার স্বপ্ন ও লড়াই কে সম্মান জানিয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে। আজ তুলে ধরবো তেমনি একজন রন্ধন শিল্পী, ফুড ক্যাটারিং ব্যবসায়ী, পর্যটন প্রশিক্ষক এবং পর্যটন উদ্যোক্তা শাহীন আক্তার পপির পথচলার গল্প।

একটা কথা বলা হয় নি। পপিরা ছিল ফেনীর বাসিন্দা। তার নানার বাড়ী, দাদার বাড়ী ফেনীর ফুলগাজী এবং ছাগল নাইয়াতে। পপির জন্ম বেড়ে ওঠা, বিয়ে সবই চট্টগ্রামে। বিয়ের পর এইচএসসি পাশ করেন ১৯৯৪ সালে। আস্তে আস্তে রান্নার আগ্রহ লাগতে শুরু করে । জা দের কাছে মুলত পপির রান্না শেখা শুরু। ম্যাগাজিন পড়তে ভালবাসতেন। রান্নার রেসিপি দেখলেই সেভাবে রান্নার চেষ্টা করতেন। পরিবারের সবাই খুব প্রশংসা করতো যা থেকে তিনি উৎসাহ পেতেন। তার স্বামী এবং পরিবারের সবার আগ্রহ দেখে কিছু কিছু রান্না শেখার প্রতি আরো মনোনিবেশ করেন। বড় পরিবার, মেহমান ছিল বেশী। বিভিন্ন প্রোগ্রাম লেগেই থাকত বাড়িতে।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম শহরের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৭৬ সালের ২০ এপ্রিল শাহীন আক্তার পপির জন্ম।বাবা লু্ৎফর রহমান মজুমদার ছিলেন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। চট্টগ্রামে অনেক উল্লেখ যোগ্য কাজ উনার বাবা করছেন, মা ছিলেন গৃহিনী। মাঝে মাঝে বেগম পএিকাতে নারীদের নিয়ে লিখতেন পপির মা। মায়ের নাম ছিল সেতারা বেগম। চার বোন এক ভাই এর মধ্যে পপি ছিল তৃতীয়। ১৯৯২ সালে চট্টগ্রাম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। এসএসসি করার পরই চট্টগ্রামের স্থানীয় এক সম্ভান্ত পরিবারে বিয়ে হয়ে যায়। একান্নবতী’ পরিবার। এক বেলাতে ২৬/২৭ জন সদস্যের জন্য রান্না করতে হয়। বাজার আসছে রান্না হচ্ছে, খাওয়া চলছে তো চলছেই।

পপির এইবার বিভিন্ন রান্নার প্রতিযোগীতায় রেসিপি পাঠানো নেশা চেপে বসলো মাথায়। ২০০৮ সালে আরকু আনন্দ আলো রন্ধন তারকাতে সিলেকশন হন। ২০১১ সালে মালেশিয়ান পাম অয়েল সেরা শেফ প্রতিযোগীতায় সিলেকশন হন এবং বিভাগীয় ভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ধীরে ধীরে সব প্রতিযোগীতায় অংশ নেওয়া শুরু করেন। অনেকটা নেশা হয়ে গিয়েছিল রান্না করার। যেই পপি রান্না করাটা পছন্দ করতেন না সেই পপি এখন ১৫০/২০০ জনের রান্না করতে পারেন।

পরিবারের সবার আগ্রহ দেখে ২০১১ সালে রান্না শিখার স্কুল গড়ে তোলেন। নাম ‘রন্ধন শৈলী’। পাশাপাশি প্রফেশনাল কোর্স করে আরো দক্ষ হওয়ার আকাংখা আরো তিব্র হল। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে চট্টগ্রামে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠান তখনও গড়ে ওঠেনি। পর্যটন কর্পোরেশন এর NHTTI থেকে কোর্স করার স্বপ্ন ছিল অনেক দিনের। ঢাকা অনেক দিন থেকে কোর্স করা সম্ভব না। তাই স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে গেল।

২০১৭ সালে অন লাইন প্লাটফর্ম ওপেন করেন বিজনেস শুরু করেন ‘হোম মেইড ফুড’ নামক প্রতিষ্ঠান থেকে। ২০১৯ সালে ইউসেপ, মিরপুর থেকে লেবেল ১ ও লেবেল ২ কোর্স করেন। সময়ের কারনে এবং সব প্রতিষ্ঠান ঢাকা হওয়াতে বেশী কিছু শিখতে পারছেন না। যা শিখেছেন এখন পর্যন্ত সেটা স্বামীর সহযোগিতার জন্য। চট্টগ্রামের ওমেন চেম্বারের মেম্বার হওয়াতে অনেক মেলাতে অংশ গ্রহণ করেন এবং বেশ প্রাপ্তি জমা পড়েছে তার খাতায়। ২ ছেলে ১মেয়ে নিয়ে বেশ ভাল আছেন। তার ক্যাটারিং বিজনেস অনেক ভাল চলে। ভবিষ্যতে বিশুদ্ধ ভাবে একটা রেষ্টুরেন্ট করার স্বপ্ন দেখেন।

‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ শাহীন আক্তার পপির উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করে এবং ভবিষ্যতে তার যে কোন কাজের পাশে থাকার প্রাণান্তর চেষ্টা করে তার সোনালী স্বপ্নকে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে সর্বদা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছে। পপির এই এগিয়ে চলার ও সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে পুষ্পিত পল্লবের মত ছড়িয়ে পড়ুক সহস্র নারীর মাঝে।