পর্যটনে নারী উদ্যোক্তা দিনা

0
327

ভুমিকাঃ ‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ পত্রিকা সব সময় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে এবং শিল্পের সাথে যুক্ত কিছু ব্যতিক্রমী মানুষকে তুলে ধরার প্রানান্তর চেষ্টা করে, এবং সেই মানুষ গুলোর পর্যটন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার লড়াই কে সম্মান জানিয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে। আজ তুলে ধরবো তেমনি একজন সুভেনির নির্মাতা ও সরবরাহকারী, ওয়েডিং প্লানার, পর্যটন উদ্যোক্তা সোহেলি দিনার পথচলার গল্প।

শিল্প ও বন্দরনগরী খুলনা জেলা নারকেল আর চিংড়ি মাছের জন্য বিখ্যাত। ১৯৭১ সালে জন্ম নেওয়া সোহেলি দিনা খুলনার মেয়ে, খুলনার বউ, ছোটবেলা থেকেই সব ধরনের কাজের প্রতি উৎসুক। সব ধরনের ক্রিয়েটিভ কাজের আগ্রহটা একটু বেশী তার। কোনো জিনিস তৈরি করা অথবা জানার ইচ্ছা এই আগ্রহ সোহেলির নানীর কাছ থেকেই পেয়েছেন। তার নানী খুবি গুনি এবং ব্যক্তিত্ব সম্পুন্ন মানুষ ছিলেন। তার আদর্শে বড় হওয়া এবং সব কিছু শেখা। বাবা ছিলেন ব্যাবসায়ী, মা ছিলেন চাকুরীজীবী। উনাদের চার কন্যা সন্তানের মধ্যে সোহেলি বড় মেয়ে, তাই ছোট বেলা থেকে দায়িত্ব টা যেন একটু বেশী ছিল ছোট বোনদেরকে দেখে রাখার। সোহেলি সরকারি করোনেশন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে এসএসসি পাস করেন এবং পাইওনিয়ার মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে ১৯৯১ সালে এইচএসসি পাস করেন। ছাত্রজীবনে খেলাধুলা অনেক মনোযোগী ছিলেন ডিভিশনাল গ্রুপে ভলিবল খেলতেন। এইচএসসি পড়াকালিন বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এবং পড়ালেখা সম্পাতি ঘটে। স্বামী ব্যবসায়ী, বিয়ের ৩ বছর পর প্রথম কন্যা সন্তান এবং ১৩ বছর পর পুত্র সন্তানের জন্মদান করেন । স্বামীর ব্যাবসার সুবাদে ১০/১২ বছর ঢাকাতে ছিলেন। বাচ্চা রা ছোট্ট পড়াশুনার কারণে খুলনাতেই থাকলে হয়।

স্বামী ঢাকা থাকাতে শশুর বাড়ীর যৌথ পরিবারে সব কিছু সামলাতে যেন চোখে সরষে ফুল দেখতেন। সোহেলির মেয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাস করেছে। ছেলে নেভি এনকারেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়ছে। মেয়ের বিয়ের সময় বিশেষ করে ওয়েডিং ডেকোরেশন এর অভাব অনুভব করেন। তখনই তার মাথায় এই কাজের ভুতটা চেপে বসে। কিছু তো একটা করতে হবে তাহলে এটা দিয়ে শুরু করা যাক এর আগে পরে তিনি অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু কোন কাজে মন বসাতে পারেন নি। প্রিয় শখ রান্না করতে পছন্দ করেন এবং পরিবারের সবার পছন্দের রেসিপি তৈরি করেন। সময় পেলেই বেড়াতে যান। গল্পের বই পড়া আর গান শোনা তার শখ।

কঠিন কাজ সহজে কিভাবে করা যায় সব সময় সেই চিন্তাই বিভোর থাকতেন ।তবে কোন কাজটাকে সঠিক ভাবে বেছে নিয়ে সঠিক পথে এগিয়ে যাবেন এটা ভাবতেই অনেক সময় লেগে তার। কারন সেই সময় তার কাছে সময় এবং পুঁজি কোনটাই ছিল না। তিনি অনেক আগে থেকেই কাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে দেশের বাইরে ইন্ডিয়া থেকে প্রশিক্ষণ নেন। কারন দেশে ভাল মানের কোন ক্রাফট ট্রেনিং সেন্টার নেই। সেই কারনেই তার শেখাটা সহজ ছিলো না। ডেকোরেশন প্রপস গুলো নিজে হাতে তৈরি করা বিনা পারিশ্রমিকে হাসি মুখে অনেক পরিচিতদের বিয়ের অনুষ্ঠান সাজিয়ে দিয়েছেন। বিয়ে হয় যৌথ পরিবারে। সেখানে সংসার সন্তান সব কিছু ঠিক রেখে নিজের হাতের শেখা কাজ গুলো নিজের মধ্যে লালন করে রেখে, এতো দিনে এসে বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছেন।

তিনি চেষ্টা করেন সুন্দর স্বপ্ন যেন ভেঙে না যায় এবং স্বপ্নকে যেন সফল করতে পারেন। স্বামী সম্পূর্ণরূপে সহোযোগিতা করেন। কাজের শুরুর দিকে একটু দিশেহারা হইলেও সবার উৎসাহ আজ তিনি এই পর্যন্ত আসতে পেরেছেন। কাজে না নামলে কাজের দিশা মেলেনা। কোন কাজে হতাস হতেন না সাহস ছিল বরাবরই। তার প্রতিষ্ঠানে কোন কর্মচারী নেই, নিজেই একা হাতে তৈরি করি ক্রাফট আইটেম গুলো। কাজের চাপ থাকলে ছেলে মেয়েরা সাহায্য করে, কাজের দিক দিয়ে এখন একটু হলেও তাকে সবাই চিনে। সবার কছে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।

অনেক বাধা বিপত্তি পার করে ছোট্ট করে নিজের একটা প্রতিষ্ঠান দাড় করিয়েছেন সাথে লাইসেন্স করে নিয়েছেন। কাপড়ের ফুল, পুথির ফুল ,বিয়ের জন্যে যাবতীয় ডেকোরশন এবং জন্মদিন অথবা ঘর সাজানোর সামগ্রী বিয়ের সামগ্রী।( EXCLUSIVE WEDDING DALA DECORATION. EXCLUSIVE DECORATION MIROR. EXCLUSIVE ENGAGEMENT RING TRAY. EXCLUSIVE WEDDING. SIGNATURE PEN) . নিকাহ কলম তৈরি করেন। ক্রাফট আইটেম ওয়েডিং প্রপস তার কাজকে শুধু খুলনার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখেন নি। এখন খুলনার বাইরে, ঢাকা চট্টগ্রাম রাজশাহী সহ সব অঞ্চলে যাচ্ছে।

‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ সোহেলি দিনার উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করে এবং ভবিষ্যতে তার যে কোন কাজের পাশে থাকার প্রাণান্তর চেষ্টা করে তার সোনালী স্বপ্নকে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে দিতে সর্বদা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছে। সোহেলির এই এগিয়ে চলার ও সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে পুষ্পিত পল্লবের মত ছড়িয়ে পড়ুক সহস্র নারীর মাঝে।