পর্যটনে নারী উদ্যোক্তা ন্যান্সি

0
343

‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ পত্রিকা সব সময় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে এবং শিল্পের সাথে যুক্ত কিছু ব্যতিক্রমী মানুষকে তুলে ধরার প্রাণান্তর চেষ্টা করে এবং সেই মানুষগুলোর পর্যটন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার স্বপ্ন ও লড়াই কে সম্মান জানিয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে। আজ তুলে ধরবো তেমনি একজন ইয়োগা প্লেয়ার, ইয়োগা কোচ, ট্যুর অপারেটর এবং পর্যটন উদ্যোক্তা নাহিদ নাহার ন্যান্সির পথচলার গল্প।

ন্যান্সির শিকড় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কিন্তু জন্ম ১৬ই ফেব্রুয়ারী ১৯৭৩ সালে ঢাকায় । বাবা সোনালী ব্যাংকের এজিএম ও মা ছিলেন গৃহিণী। স্কুল জীবন শেষ হওয়ার পরপরই তাকে (ন্যান্সি) বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। তার জীবন সঙ্গী আহসান উল্লাহ মন্টু পেশায় ছিলেন জাতীয় দল এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাবেক খেলোয়াড়। সেই সাথে এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কোচও ছিলেন তিনি (মন্টু) । বিয়ের পর মায়ের মত শাশুড়ি ও অত্যন্ত সাপোর্টিভ একজন জীবনসঙ্গী পাওয়ায় অতি অল্প বয়সে মা হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও তিনি (ন্যান্সি) পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন।

মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী গার্লস হাই স্কুল থেকে ১৯৮৮ সালে পাস করেন এবং ১৯৯০ সালে লালমাটিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর বি.এ পরীক্ষাতেও অংশ গ্রহণ করেন তেজগাঁও কলেজ থেকে। শুধুমাত্র তাই নয় ১৯৯৫ সালে ইডেন কলেজ থেকে বিএসসি অনার্স করেন এবং সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারে এমএসএস শেষ করেন ২০০০ সালে। তাছাড়াওএলএলবি এবং এলএলএম অধ্যায়ন করেন। এরপর ইয়োগার উপর প্রাথমিক, ইন্টারমিডিয়েট কোর্স, ডাবল ডিপ্লোমা ও ট্রেইনার কোর্স কমপ্লিট করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ ইয়োগা ফেডারেশনের কোচ হিসেবে নিয়োজিত আছেন। উনি বাংলাদেশ ইয়োগা অ্যাসোসিয়েশনের ইসি কমিটির সদস্যও বটে ।বাংলাদেশ ইয়োগা অ্যাসোসিয়েশন এবং ইন্ডিয়ান হাইকমিশন যৌথভাবে বাংলাদেশে ইয়োগার প্রচার ও প্রসার নিয়ে বিভিন্ন জেলাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন !

তিনি ন্যাশনাল ইয়োগা চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় পরপর ৪বার বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ইয়োগা দল এর কোচ হিসেবে সাউথ এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে দল নিয়ে নেপাল যান ২০১৭ সালে। সেই সময় এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়ে প্লেয়াররা একটি ব্রোঞ্জ ও একটি রৌপ্য পদক অর্জন করে বাংলাদেশ এর জন্য গৌর্রব বয়ে আনেন। বর্তমান ন্যান্সি ২০০৯ সালে “ইয়োগা হেভেন ” নামে একটি ইয়োগা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ঢাকা পাবলিক কলেজ পান্থপথ এর এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য এবং তেজগাঁও রেলওয়ে দোকান মালিক সমিতি পরিষদের সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত আছেন। বিপুল সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রতিটি ধাপ।এতো ব্যস্ততার মাঝেও নতুন কিছু নিয়ে কাজ করার স্পৃহা বহাল রেখে তিনি বাংলাদেশ সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মুক্তা জার পানির সুপার ডিলার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন ঢাকা মহানগরে।তার পাশাপাশি B.S Trade International এর নামে একটি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।

ভ্রমন হচ্ছে ন্যান্সির নেশা-পেশা দুটোই।তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- “জীবনকে একঘেয়ে রুটিন বাঁধা ছকে ফেলার কোনো মানেই হয় না।আর্থিক, মানুষিক, শারীরিক, সাংসারিক অনেক সমস্যাই আসতে পারে জীবনে।মানুষ কাজের ফাঁকে একটু বসে বা বিশ্রাম নিয়ে সেই ক্লান্তি দূর করতে ও মানুষিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে যেমন এক গ্লাস ঠান্ডা পানি পান করে ঠিক তেমনি কাজের চাপ বেড়ে গেলে ২/৩ দিনের একটি ট্যুর এনে দিতে পারে পুরো জীবনীশান্তি।” ট্যুর এর বিভিন্ন পজেটিভ দিক তুলে ধরার পাশা পাশি তিনি নিজের দেশকে ভালোভাবে জানার এবং সেই সাথে বিদেশে নিজের দেশকে তুলে ধরার নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজ পরিচালনার মাধ্যমে । এমনকি দেশের মানুষের কাছে বিদেশের সংস্কৃতি জীবনযাপন তুলে ধরছেন। তিনি বলেন– বিভিন্ন দেশে গেলেই আমরা জানতে এবং বুজতে পারি আমাদের পর্যটনের উন্নয়নের স্বার্থে কি কি ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করতে হতে পারে।”

তিনি আরো বলেন– “দেশের ভিতরে আমি বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখি একেক জেলার সংস্কৃতি,জীবনযাপনের মান ভিন্ন ও বৈচিত্র্যে ভরপুর।চারিদিকে মনোমুগ্ধকর সকল বৈচিত্র্য দেখি কিন্তু খুবই খারাপ লাগে যখন দেখি আমাদের দেশের অনেক অঞ্চল এখনও সুবিধা বঞ্চিত । কোথাও কোথাও আবার মৌলিক চাহিদাগুলোও পূরণ হচ্ছেনা । তাই তিনি সুবিধা বঞ্চিত মানুষগুলোর জন্য কিছু করতে চান।তার কর্মের দ্বারা সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাড়াঁতে চান এবং তাদের প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

শিক্ষা জীবন শেষ করে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির সাথে কিছু নিয়োজিত ছিলেন।একটি এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরির (CEO পদে ) জড়িত ছিলেন কিছুদিন। পরবর্তীতে রেডিমেড গার্মেন্টস হোলসেল ডিস্ট্রিবিউশনের সাথে জড়িত ছিলেন।এরপর দু’টো ডেভেলপার কোম্পানী Landscape Living Ltd. এবং Property Plus কোম্পানিতে পরিচালক পদে নিয়োজিত ছিলেন । বর্তমানে অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি পর্যটন ক্ষেত্রে নিজের একটি ভালো অবস্থান তৈরি করেছেন। ন্যান্সি ২০১৬ সালে FLORET Tour & Travel নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে অদ্যবদি ট্যুর পরিচালনা করে আসছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের এর Event management এর কাজও করে থাকেন তার প্রতিষ্ঠান।

‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ নাহিদ নাহার ন্যান্সির উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করে এবং ভবিষ্যতে ন্যান্সির যে কোন কাজের পাশে থাকার প্রাণান্তর চেষ্টা করে তার সোনালী স্বপ্নকে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে সর্বদা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছে। ন্যান্সির এই এগিয়ে চলার ও সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে পুষ্পিত পল্লবের মত ছড়িয়ে পড়ুক সহস্র নারীর মাঝে।