পর্যটনে নারী উদ্যোক্তা সাদিয়া

0
680

ভুমিকাঃ ‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ পত্রিকা সব সময় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে এবং শিল্পের সাথে যুক্ত কিছু ব্যতিক্রমী মানুষকে তুলে ধরার প্রানান্তর চেষ্টা করে, এবং সেই মানুষ গুলোর পর্যটন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার লড়াই কে সম্মান জানিয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে। আজ তুলে ধরবো তেমনি একজন তরুনী, ট্যুর অপারেটর, পর্যটন উদ্যোক্তা সাদিয়া আঞ্জুমকে।

‘করিয়ে পাগল পারা তারাই নিলো সব লুটে, শহরের ষোল জনাই বোম্বেটে’ বাংলার শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, তৎকালীন শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর ফকির লালন সাঁই, গগন হরকরা, সাহিত্যিক মীর মোশারফ হোসেন, ও নীলকরদের আতংক কাঙ্গাল হরিনাথের তীর্থভূমি এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৯৮ সালে জন্মগ্রহন করেন সাদিয়া। তার পিতা আব্দুল আজিজ চাকরিজীবী, মাতা রেহানা বেগম গৃহিণী। বাবার চাকরির সুবাদে শৈশব কেটেছে ঢাকায়। দুই বোনের মধ্যে সাদিয়া বড়। ২০০৭ সালে সাদিয়ার দাদা মারা গেলে দাদীর আবদারে কুষ্টিয়াতে গিয়ে ভর্তি হয়। তারপর মধুপুর কলেজিয়েট স্কুল থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকায় ফিরে সাভার গনস্থাথ্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ২০১৬ সালে প্যারামেডিকেল কোর্স সম্পন্ন করেন। বর্তমানে সাইক ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল কলেজে ডিপ্লোমা নার্সিং অধ্যায়নরত সাদিয়া।

শৈশব থেকেই দুরন্ত উদ্যমী সাদিয়া ভ্রমন পিপাসু ছিলেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাবাকে বাধ্য করতেন বেড়াতে নিয়ে যেতে। বাবাও প্রথম সন্তান হওয়ায় আবদার মেনে নিয়ে বেড়াতে নিয়ে যেতেন বিভিন্ন জায়গায়। নিজের ইচ্ছায় ব্যাবসা শাখায় পড়াশোনা করলেও একটা সময় বাবার ইচ্ছায় মেডিকেল সেক্টরে পড়াশোনা করেন, প্যারামেডিকেল কোর্সে ভর্তি হয়ে। সাদিয়া একসময় স্বপ্ন দেখতো দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়ানোর। কিন্তু পরিবারের বড় মেয়ে হওয়ায় একটু বড় হতেই একটা দায়িত্ববোধ থেকে ভাবনায় পরিবর্তন আনেন। প্যারামেডিকেল কোর্স শেষ করে, সাইক ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল কলেজে ডিপ্লোমা নার্সিং এর ভর্তি হতেই (বিএনএসবি) ঢাকা চক্ষু হসপিটালে চাকরির সুযোগ পান এবং যোগদান করেন।

চাকরিতে ডিউটির সময় কম হওয়াতে, পড়াশোনার পাশাপাশি ভালো কিছু করার চেষ্টা ও চিন্তা করতে থাকেন। মনে মনে ভাবেন নিজের একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন। কিন্তু এই মুহূর্তে পড়াশোনা চাকরী ঠিক রেখে কিভাবে শুরু করবেন। ইতিমধ্যে ২০২০ সালে ফেস্টিভ অ্যান্ড কালচারাল ট্যুরিজ্ম কনসোর্টিয়াম আয়োজিত ‘নদী উৎসব’র ভলেন্টিয়ার হওয়ার সুযোগ পান। প্রায় হাজার খানেক পর্যটক ঐ উৎসবে উপস্থিত হয়। বরিশাল রুটের একটা বিশাল বড় জাহাজে আয়োজনটি ছিল দিনব্যাপী। আয়োজকদের সাথে সারাদিন গেস্টদের সেবা দিতে দিতে সাদিয়া সিদ্ধান্ত নিন একটা ট্রাভেল এজেন্সি গড়ে তুলবেন। যদিও ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ফেসবুক ভিত্তিক ট্রাভেল গ্রুপের টুরে গিয়ে কিছুটা অভিজ্ঞটা সঞ্চয় আগেই করেছিল।

পড়াশোনা এবং চাকরি দুটোই ঠিক পাশাপাশি অন্য চিন্তা করাটা একটু কষ্টের বটেই। তবুও ইচ্ছে নিজের একটা প্রতিষ্ঠান করার, বরাবরই সাদিয়া আত্মবিশ্বাসী একটা মেয়ে। অবশেষে বাবা মায়ের অনুমতি নিয়ে এবং বন্ধু তন্দ্রা ও নোমানের সহযোগিতায় ফেব্রুয়ারিতে ফেসবুক ভিত্তিক অনলাইন প্লাটফর্ম fantasy tourism and adventure গঠন করেন। মার্চের শুরুতে একটা গ্রুপ ট্যুর করার পরপরই কোভিড ১৯ এর ছোবলে সারা পৃথিবীর পর্যটন উদ্যোক্তাদের সাদিয়াও থেমে আছে। তিনি বলেন, একটু সময় পেলে ঘুরতে বের হই, প্রকৃতির মাঝেই তো সব ক্লান্তির অবসান ঘটে। ঘুরে বেড়ানোটা যখন এক ধরনে নেশা তখন এই নেশা টাকেই পেশা হিসেবে কাজে লাগাতে চাই। এখন তো এটাই উদ্দেশ্য আর লক্ষ্য ট্যুর এজেন্সির মালিক হওয়া এই প্রত্যাশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের পাশেই পৈত্রিক বাড়ি হওয়াতে রবীন্দ্র কুটিবাড়ীতে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের জন্য হোমস্টে ইকো-কটেজ তৈরি করতে চান।

উপসংহার; ‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ সাদিয়া আঞ্জুম এর উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করে এবং ভবিষ্যতে তার যে কোন কাজের পাশে থাকার প্রানান্তর চেষ্টা করে তার সোনালি স্বপ্নকে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে দিতে সর্বদা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছে। সাদিয়ার এই এগিয়ে চলার ও সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে পুষ্পিত পল্লবের মত ছড়িয়ে পড়ুক সহস্র নারীর মাঝে।