পর্যটনে নারী উদ্যোক্তা দোলা

0
244

‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ পত্রিকা সব সময় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে এবং শিল্পের সাথে যুক্ত কিছু ব্যতিক্রমী মানুষকে তুলে ধরার প্রাণান্তর চেষ্টা করে এবং সেই মানুষগুলোর পর্যটন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার স্বপ্ন ও লড়াই কে সম্মান জানিয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে। আজ তুলে ধরবো তেমনি একজন রন্ধন শিল্পী, ফুড ক্যাটারিং ব্যবসায়ী পর্যটন প্রশিক্ষক এবং পর্যটন উদ্যোক্তা ফৌজিয়া তাজরিন দোলার পথচলার গল্প।

ফৌজিয়া তাজরিন দোলা ১৯৮৬ সালে ঢাকার প্রথম অভিজাত এলাকা ধানমণ্ডির সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০১ সালে ধানমণ্ডি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পাস করেন। এবং ২০০৩ সালে ঢাকা মহিলা কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাস করেন। অতঃপর ২০১০ সালে উইমেনস ফেডারেশন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হান্নান খানের অতি আদরে এবং গৃহিণী মা আনোয়ারা জাহান এর সোহাগে শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন দোলা। ২০০৫ সালে পারিবারিক ভাবে তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসেন।

ছোট বেলা থেকে একটু স্বাধীনচেতা দোলা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। কলেজে পড়াকালীন সময়ে বন্ধুদের জামা-কাপড়ে হ্যান্ড-পেইন্ট ও ব্লকের কাজ শুরু করেন। ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। এইচ.এস.সি বিয়ের পিঁড়িতে বসলেও, কাজ বন্ধ করেন নি। পড়াশুনা, সংসার, কাজ একসাথে চালিয়েছেন। অতঃপর বু-টিকস হাউজ এর শো-রুম করেছেন। ২০০৯ সালে প্রথম সন্তান জন্মদান করেন। বাচ্চা, সংসার, বুটিকস, কারখানা, শো-রুম সব একসাথে চালাতে না পেরে বাধ্য হয়েই একসময় বন্ধ করে দেন।

কিছুদিন পর এক বন্ধুর পরামর্শে ২০১৪ সালে NHTTI মহাখালীতে থেকে বেকারি অ্যান্ড পেস্টি কোর্সে ভর্তি হন। ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে প্রথম কেক বানান দোলা। সবাই প্রশংসা করলেন এবং ততদিনে ক্লাস শেষ। প্রফেশনাল শেফ কোর্স করবেন কিন্তু টাকা নাই, ভর্তির শেষে এসে স্বামীর থেকে টাকা পান কিন্তু চাকরি না করার শর্তে। ততদিনে অনলাইনে কিছু কেক বিক্রি শুরু হয়েছে তার। ২০১৬ সালে ILO থেকে সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে বেকিং এসেসর হিসেবে কাজে যুক্ত হন। সেই সুবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় এসেসমেন্ট করতে যান এবং কাজের সাথে ভ্রমণটা বোনাস পান। ILO এর সুবাদে সারাদেশের অনেক উদ্যোক্তার সাথে পরিচিত হয়েছেন দোলা।

সবার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প শুনতে শুনতে ২০১৭ সালে আবার বিজনেস শুরু করলেন। এবার বু-টিকস নয়, Dolas pastry and catering নামে অনলাইনে হোমমেড ফুডের বিজনেস। ইচ্ছে শক্তি কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্যমে পথচলা শুরু হলো দোলার। এরপর ২০১৯ সালে Dola’s Dream World নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল চালু করেন। নানা ধরনের রেসিপি প্রকাশ করতে গিয়ে স্বপ্ন দেখেন নিজের একটা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করার। দোলার মমতাময়ী মা একথা জানার পর টাকা পয়সা দিয়েছেন তাকে। তিনি ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে Khan Training Centre নামে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছেন ধানমন্ডির শংকরে। নতুন উদ্যোক্তাদের অল্প টাকায় সবাইকে বেকিং ট্রেনিং করান। দোলা বলেন, খান ট্রেনিং সেন্টার আমার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান, এখান থেকে হাজার হাজার ছেলে মেয়ে ট্রেনিং নিয়ে উদ্যোক্তার দক্ষতা অর্জন করুক। এবং আমার স্বপ্নের ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বেগম রোকেয়ার রসনা বিলাসের গল্প বিশ্ববাসী জানুক।

‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ ফৌজিয়া তাজরিন দোলার উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করে এবং ভবিষ্যতে তমার যে কোন কাজের পাশে থাকার প্রাণান্তর চেষ্টা করে তার সোনালী স্বপ্নকে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে সর্বদা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছে। দোলার এই এগিয়ে চলার ও সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে পুষ্পিত পল্লবের মত ছড়িয়ে পড়ুক সহস্র নারীর মাঝে।