পর্যটনে নারী উদ্যোক্তা শিউলি

0
523

ভুমিকাঃ ‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ পত্রিকা সব সময় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে এবং শিল্পের সাথে যুক্ত কিছু ব্যতিক্রমী মানুষকে তুলে ধরার প্রানান্তর চেষ্টা করে, এবং সেই মানুষ গুলোর পর্যটন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার লড়াই কে সম্মান জানিয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে। আজ তুলে ধরবো তেমনি একজন রন্ধন শিল্পী, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী, ডেইরী ফার্মার, এগ্রো রিসোর্ট ওনার, গার্ডেনার, পর্যটন উদ্যোক্তা শিউলী বেগমকে।

শিউলী বেগম ১৯৭৮ সালে ঢাকার মহাখালী আরজত পাড়ার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সাত ভাই বোনের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ। স্কুল জিবনের হাতেখড়ি ঢাকাতেই মায়ের হাত ধরে। বাবার চাকরি এবং ব্যবসার সুবাদে সারা জীবন আরজত পাড়াতেই থাকা হয় শিউলী বেগমের। মাঝে মাঝে ভাই বোনদের ভ্রমনে যেতেন। শাহিনবাগ সংলগ্ন সিভিল এভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৯৯৪ সালে এসএসসি এবং ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পাশ করেন। স্কুল জীবন থেকেই সঙ্গীত চর্চা করতেন এবং স্কুল কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করতেন।

পারিবারিক কারনে বেশ অল্প বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শিউলী। বিয়ের ঠিক দুই বছর পরেই প্রথম সন্তান লাভ করেন। স্বামী প্রবাসী হওয়ায় সন্তানের দেখা শোনার সম্পূর্ণ দ্বায়দায়িত্ব শিউলী বেগমের কাঁধে পড়ে, যে কারনে পড়াশোনা এবং চাকরি অথবা ব্যাবসা হইতে সীমিত সময়ের জন্য দূরে থাকেন তিনি। যদিও তার সবসময়ই ইচ্ছে ছিল একজন প্রতিষ্ঠিত নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করবেন। সুতরাং ক্ষণিকের জন্য শিউলী একজন আদর্শ গৃহিণী হয়ে যান। ১৯৯৯ সালে দ্বিতীয় সন্তান লাভ করেন এবং ২০০৭ সালে সর্বশেষ সন্তান লাভ করেন। স্বামী প্রবাসী কারনে পারিবারিক প্রয়োজনে নিজের ইচ্ছা শক্তিকে চাপিয়ে রাখতে হয়েছে শিউলীর। কিন্তু তার অদম্য প্রচেষ্টা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি আজ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা।

২০১০ সালে কৌতহল বশত রন্ধন শিল্পর সাথে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে হাউজিং ব্যাবসায় যুক্ত হয়ে ২০১২ সালে খুশী হাউজিং লিমিটেড কোম্পানির চেয়ারম্যান পদে যোগদান করেন। ২০১৪ সালে হিমালয় কন্যা খ্যাত পঞ্চগড় জেলায় ইউনিকা ডেইরি এন্ড এগ্রো লিমিটেড নামে পারিবারিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, বর্তমানে শিউলী প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক পদে নিযুক্ত আছেন। ২০১৭ নাগাদ গার্মেন্টস ব্যাবসার সাথে জড়িত হন। গার্মেন্টস ব্যাবসায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশ সুনাম অর্জন করেন। সেই সুবাদে ২০১৮ সালে নিজস্ব কারখানা প্রতিষ্ঠিত করেন। শিউলীর ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রকারের পোশাক তৈরি এবং সরবরাহ করে থাকেন। তার এই পোশাক বিশ্বের ১৯৩ দেশে সরবরাহ করেন।ঢাকার বছিলাতে একটা ডেইরী ফার্ম করেছেন এবং পঞ্চগড়ে একটি চা বাগান ও টি রিসোর্ট করেছেন। সম্প্রতি পঞ্চগড়ে এগ্রো ট্যুরিজ্ম এর কাজ শুরু করেছেন। শিউলী স্বপ্ন দেখেন যেন তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে দেশে বিদেশে পরিচিতি লাভ করেন।

শখ থেকে শিল্পী হওয়ার বাসনায় স্কুল ও কলেজে জীবন থেকে সংগীতের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং বেশ পারদর্শি ছিলেন। মাঝে মাঝে স্ট্রেজ প্রোগ্রাম করতেন।জাতীয় পর্যায় বেশ কিছু রেডিও এবং টিভি অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন ও পরিচালনা করেছেন।বাংলাদেশের রন্ধন জগতেও বেশ অগ্রগতি তার। জাতীয় পর্যায়ে কেকা ফেরদৌসির হাত ধরে।এছাড়াও বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হইতে রন্ধন বিষায়ক প্রশিক্ষন লাভ করেন। ভ্রমণ বিলাসী শিউলী ভারত, নেপাল, ভূটান, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া সহ বেশ কিছু দেশ ইতিমধ্যে ভ্রমণ করেছেন। বর্তমানে স্বামী এবং তিন সন্তান সহ মহাখালী আরজত পাড়ায় নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজ্ম এক্সপ্লোরারস এসোসিয়েশন – বিটিইএ সদস্য হিসাবে যুক্ত আছেন।

উপসংহার; ‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ শিউলী বেগম এর উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করে এবং ভবিষ্যতে শিউলীর যে কোন কাজের পাশে থাকার প্রানান্তর চেষ্টা করে তার সোনালি স্বপ্নকে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে দিতে সর্বদা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছে। শিউলীর এই এগিয়ে চলার ও সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে পুষ্পিত পল্লবের মত ছড়িয়ে পড়ুক সহস্র নারীর মাঝে।