পর্যটনে নারী উদ্যোক্তা লিজা

0
560

ভুমিকাঃ ‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ পত্রিকা সব সময় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে এবং শিল্পের সাথে যুক্ত কিছু ব্যতিক্রমী মানুষকে তুলে ধরার প্রানান্তর চেষ্টা করে, এবং সেই মানুষ গুলোর পর্যটন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার লড়াই কে সম্মান জানিয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে। আজ তুলে ধরবো তেমনি একজন রন্ধন শিল্পী, ফুড ক্যাটারিং ব্যবসায়ী, পর্যটন উদ্যোক্তা রাবেয়া বশরী লিজাকে।

লিজা ১৯৭৮ সালে পাহাড়, ঝরনা, সমুদ্র আর কর্ণফুলী বিধৌত বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে লিজা চতুর্থ। স্কুল জীবনের হাতেখড়ি বাড়ির পাশেই। স্কুল জীবনেই ভ্রমণের নেশায় পরে এবং তখন থেকেই বিভিন্ন ধরনের সুভেনির সংগ্রহ ও বিভিন্ন ধরনের খাবারের প্রতি নেশা আসক্ত হন লিজা। ১৯৯৬ সালে রাউজান গহিরা এজেএমএস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস,এস,সি পাশ করেন। পা দেন কলেজ জীবনে, তারপর ১৯৯৮ সালে গহিরা কলেজ থেকে এইচ,এস,সি পাশ করেন। ২০০০ সালে গহিরা কলেজ থেকে বিএ পাস করেন এবং ২০০৩ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।২০১৮ ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির আন্ডারে SEIP প্রজেক্টে থেকে ফুড এন্ড বেভারেজের উপর সেফ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। বেকারি কোর্স ও করেছেন বিভিন্ন ইনিস্টিটিউট থেকে। ২০০৫ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে দুই মেয়ে ও এক ছেলের জননী।

লিজার বিভিন্ন ধরনের কাজ শেখার প্রতি অনেক আগ্রহ ছিল, যে কারণে সময় বের করে নতুন নতুন কাজ শিখতেন। রক্ষণশীল পরিবার গুলোতে এস,এস,সি পাস করার পরই বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা চলমান লিজার পরিবারও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না।অবশেষে একদিন মার কাজ থেকে টাকা চুরি করে কলেজে ভর্তি হন। অবশ্য তখন বাবা আর বারণ করেনি। লিজার বাবা সব কাজে সাহায্যে করতো, আর বলতো আমার এই মেয়েটা মেয়েটা ছেলের থেকেও বেশি পরিশ্রমী। বাবার কথা গুলো শুনে লিজা সাহস পেয়ে এতো দূর এগিয়েছেন। মায়ের সহযোগিতাও কম ছিলনা।১৯৯৬ সালে এস,এস,সি পরীক্ষার পর তিন মাস সময়ে লিজা সরকারি ভাবে সেলাই কাজ শিখেন। সেই সময়েই টাইপিং ও ব্লক বাটিকের কাজ শিখেন। বিএ পরীক্ষার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে কম্পিউটার, টাইপিং, ব্লক, বাটিক, সেলাই কাজ, ব্যাগ তৈরি ও শোপিস বিভিন্ন কাজের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ।

লিজা ২০০১ সালে থেকে কোরিয়ান “ইয়ং ওয়ান কোম্পানি লিমিটেড” চট্টগ্রাম ইপিজেডে এইচআরডি অফিসার হিসাবে যোগদান করেন এবং ২০০৫ সালে পর্যন্ত একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ২০০৫ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের একবছর পরই কোল জুড়ে আসে চাঁদের মত ফুটফুটে হাসি দিয়ে প্রথম কন্যা সন্তান। বর্তমানে লিজা তিন সন্তানের জননী। ২০১৭ সালে কালিনারী এসোসিয়েশন থেকে বৈশাখী মেলা থালা প্রতিযোগিতায় লিজা ৩য় স্থান অর্জন করেন। ২০১৮ সালে প্রথম দিকে জাতীয় ভর্তা প্রতিযোগিতায় ৩য় স্থান অর্জন করেন। ২০১৮ প্রথমআলো ইলিশ রসনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। সে বছরই ডেন কেক প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। ২০১৮ সালের শেষ দিকে ম্যাকারনি কুলসন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন।২০১৯সালে ডিপ্লোমা মিষ্টির লড়াই প্রতিযোগিতায় সেমিফাইনালিস্ট হন। ২০১৯ সালের শেষের দিকে সেরা রন্ধনশিল্পী প্রতিযোগিতায় লিজা সেরা ৬ এ পৌঁছেন। এছাড়া ছোট খাট কিছু প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।


পরবর্তীতে ২০১৯ সালে লিজা ও এম বাজারে মার্কেটিং অফিসার হিসাবে জয়েন্ করেন। ও এম বাজারের বিভিন্ন মিটিং লিজার তৈরি খাবার সরবরাহ করেন। তারমধ্যে চিকেন ফ্রাই, ফ্রাইড রাইস, চাইনিজ সবজি, ভুনা খিচুড়ি, মোরগ পোলাও, নিয়মিত সরবরাহ করেন।লিজার অনলাইন একটা ক্যাটারিং সার্ভিস প্রতিষ্ঠান আছে, নাম FOOD FANTASY যার সকল খাবার নিজ বাসায় রান্না করেন। অর্ডার নেওয়া এবং সরবরাহ করার জন্য বর্তমানে ৬ জন কর্মচারী নিয়োজিত আছে। লিজার তৈরি খাবার বিভিন্ন কর্পোরেট অফিসে সরবরাহ করে থাকেন যা বেশ প্রশংসিত। এছাড়া লিজা ওমেন বিজনেস প্লাটফর্ম নামে অনলাইনে বিউটি প্রোডাক্ট বিক্রয় করেন।বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলে রান্নার প্রোগ্রাম করেছেন তারমধ্যে চ্যানেল আই, দেশ টিভি, উল্লেখযোগ্য। মাঝে মাঝেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লিজার রেসিপি প্রকাশিত হয়।২০১৯ সালের শীতকালে ১৪ হাজার পিঠা বানিয়েছিলেন যা একটি কর্পোরেট অফিসের রিভার ক্রুজে দুই দিনে ২০ জন সহযোগী নিয়ে। সেখানে ১০ রকমের পিঠার সমাহার ছিল। এই প্রোগ্রামটি তাকে আরও বড় কোনকিছু করার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। প্রতিবছর বিভিন্ন মেলায় তিনি পিঠার স্টল নিয়ে নানা মুখরোচক পিঠার পসরা সাজান।

উপসংহার; ‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ রাবেয়া বশরী লিজার উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করে এবং ভবিষ্যতে লিজার যে কোন কাজের পাশে থাকার প্রানান্তর চেষ্টা করে তার সোনালি স্বপ্নকে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে দিতে সর্বদা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছে। লিজার এই এগিয়ে চলার ও সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে পুষ্পিত পল্লবের মত ছড়িয়ে পড়ুক সহস্র নারীর মাঝে।