পর্যটনে নারী উদ্যোক্তা চৈতি

0
1030

ভুমিকাঃ ‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ পত্রিকা সব সময় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে এবং শিল্পের সাথে যুক্ত কিছু ব্যতিক্রমী মানুষকে তুলে ধরার প্রানান্তর চেষ্টা করে, এবং সেই মানুষ গুলোর পর্যটন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার লড়াই কে সম্মান জানিয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে। আজ তুলে ধরবো তেমনি একজন তরুনী, ট্যুর গাইড, পর্যটন ব্যবসায়ী ও ট্যুর অপারেটর জান্নাত রহমান চৈতিকে।

চৈতি ১৯৯৭ সালে ঢাকার আজিমপুরে বসবাসরত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও পৈতৃিক নিবাস মুন্সিগঞ্জ কিন্তু বাবার চাকরির সুবাদে জন্ম ও বেঁড়ে ওঠা ঢাকার আজিমপুরে। তারা ৪ ভাই-বোনের চৈতি পরিবারের বড় সন্তান । চৈতি আজিমপুরে অবস্থিত নতুন পল্টন লাইন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০১২ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করেন। অতঃপর কলেজ জীবনের শুরু এবং বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ২০১৪ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করেন। চৈতি বর্তমানে ইডেন মহিলা কলেজে ইতিহাস বিষয় এ অনার্স করছেন।

২০০৮ সালে চৈতির পরিবার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জে ফিরে গেলেও পড়াশোনা ক্ষতি হবে ভেবে ঢাকায় তার ফুপুর বাসায় থেকে কলেজ এ পড়াশোনা ও ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানোর মাধ্যমে নিজেই নিজের জন্য উপার্জন শুরু করে অষ্টম শ্রেনীতে পড়ার সময় থেকেই।
যৌথ পরিবারে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠায় সে নতুন পরিবেশ ও নতুন ব্যক্তিত্বের সাথে পরিচিত হতে পছন্দ করেন। সদালাপী মিষ্টভাষিণী চৈতি সব সামাজিক বন্ধনের মাঝেই সুখ খুঁজেন।

ছোট বেলায় বাবার কাছ থেকে সিলেট ও বান্দরবান এ আর্মি ট্রেনিং এর বিভিন্ন গল্প শুনে ভ্রমণের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। অতপর সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাদেশ ঘুরে দেখার অদম্য আগ্রহ ও মনোবলে বলিয়ান হয়ে ওঠেন। কিন্তু পুরো বাংলাদেশ ঘুরে বেড়াতে অনেক টাকার প্রয়োজন যা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব না। অতপর ২০১৯ সালের জুন মাসে ফেসবুক ভিত্তিক অনলাইন ট্রাভেল প্লাটফর্ম ‘ঘুরিফিরি বাংলাদেশ’ নামে ট্রাভেল গ্রুপ তৈরি করে স্টুডেন্টদের নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তাতে একদিকে যেমন নিজের ঘোরা হয় অন্যদিকে সামান্য আয়ও হয়। স্কুল জিবন থেকে ট্যুরিজমের প্রেমে পড় চৈতি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এসে একজন নারী পর্যটন উদ্যোক্তা। ইতিহাস পড়াশোনা করে এই আগ্রহ ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশের ৬৪ জেলা নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করেছে চৈতি। যার মাধ্যমে সে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার আলাদা আলাদা খাদ্যাভ্যাস, ঐতিহ্য, ও জীবন যাত্রা তুলে ধরতে পারেন ভ্রমণ প্রিয় প্রত্যেকটি মানুষের কাছে। ঘুরিফিরি বাংলাদেশ ট্রাভেল গ্রুপ এর মাধ্যমে তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের কম খরচে দেশটা ঘুরে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছেন। কারণ, তার কারন চৈতি মনে করে জীবন গড়ার পাশাপাশি এ সময়টাই ঘুরেফিরে স্রষ্টার অপরুপ সৃষ্টির সাথে কিছুটা সক্ষতা গড়ে তোলার উপযুক্ত সময় এটাই । বয়স খুব বেড়ে গেলে ইচ্ছা থাকা শর্তেও শারীরিক শক্তি কমে যায়। তার মতে,আমাদের দেশটা যে কতটা সুন্দর তা কেবল নিজ চোখে দেখলেই বুঝতে পারা সম্ভব।

চৈতির সবচেয়ে পছন্দের কাজ হিল ক্লাইম্বিং ও এডভেঞ্চার ট্যুর অপারেশন। ট্যুর গাইডিং করতে, গান গাইতে ও শরিরচর্চা করতেও পছন্দ করেন তিনি।
তার মতে,পাহাড়ে গিয়ে সে জীবন সঞ্চারণ শক্তি খুঁজে পান। আত্নশক্তি ফিরে পান ও নিজের শক্তি- সামর্থ্য যাচাই করতে পারেন। পাহাড় আরোহণ তাকে আত্নবিশ্বাসী হয়ে স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করে সবচেয়ে বেশি। সে নিজেকে খুব বিশ্বাস করেন। তার মনে হয় সে চাইলে যেকোনো কিছুই করতে পারবেন।

চৈতির আত্নবিশ্বাস খুব মজবুত হয় যখন তিনি প্রথম বার সমুদ্র-পৃষ্ঠ থেকে ৩,২৩৫ ফুট উচুতে ‘কেওক্রাডং’ অরোহণ করেন। কারন, তখন সে শারিরীক ভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। তার পরিচালিত ট্রাভেল গ্রুপ ‘ঘুরিফিরি বাংলাদেশ’ – মাধ্যমে সে দেশের বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পট পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষে কিছু বিশেষ কার্যক্রম পরিকল্পনা করছেন। চৈতি সব সময় পরিবেশ বান্ধব পর্যটন বিকাশের পক্ষে কাজ করেন।

উপসংহার; ‘দি ট্যুরিজম ভয়েস’ জান্নাত রহমান চৈতির উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করে এবং ভবিষ্যতে চৈতির যে কোন কাজের পাশে থাকার প্রানান্তর চেষ্টা করে তার সোনালি স্বপ্নকে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে দিতে সর্বদা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছে। চৈতির এই এগিয়ে চলার ও সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে পুষ্পিত পল্লবের মত ছড়িয়ে পড়ুক সহস্র নারীর মাঝে।